ঢাকা

অবসরের প্রস্তাবে কর্মীদের জন্য মোটা অঙ্কের সুবিধা, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কর্মসূচি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ৬০০–এর বেশি শিক্ষক ও কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের আওতায় যোগ্য কর্মীরা চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী এককালীন অর্থের পাশাপাশি অবসরের পর নির্দিষ্ট সময়ের স্বাস্থ্যবিমা সুবিধাও পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত যোগ্য শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য এই Employee Voluntary Retirement Incentive Program চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মীদের স্বেচ্ছায় অবসরে উৎসাহিত করা হবে। তবে কর্মসূচির আওতায় থাকা সবাই শেষ পর্যন্ত অবসর নেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির মোট কর্মীদের প্রায় ১৬ শতাংশ এই অবসর প্রণোদনা কর্মসূচির জন্য যোগ্য। যদিও কতজন কর্মী শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন, সে সংখ্যা এখনো জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয়।

চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী এককালীন অর্থ

২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য চালু করা এই কর্মসূচিতে অবসর নেওয়া কর্মীদের দেওয়া হবে চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে এককালীন আর্থিক সুবিধা। যারা ১০ বছর থেকে ১৫ বছরের কম সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন, তারা পাবেন ছয় মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ।

১৫ বছর থেকে ২০ বছরের কম চাকরির মেয়াদ থাকা কর্মীদের দেওয়া হবে নয় মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ। আর যেসব শিক্ষক ও কর্মী ২০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেছেন, তারা অবসরের সময় এক বছরের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

অর্থাৎ, কোনো কর্মীর চাকরির মেয়াদ ২০ বছর বা তার বেশি হলে তিনি এই কর্মসূচির আওতায় অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ এককালীন অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

শুধু এককালীন অর্থ দিয়েই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা অংশগ্রহণকারীদের জন্য অবসরের পর প্রথম ছয় মাসের COBRA স্বাস্থ্যবিমার সম্পূর্ণ খরচও হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি বহন করবে। ফলে অবসর গ্রহণের পরপরই স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে কর্মীদের যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে, সেটিও কিছুটা কমবে।

জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাসে গুরুত্ব

হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি বলছে, এই অবসর কর্মসূচি কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর জনবল পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এটি নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো পর্যালোচনা, বিভিন্ন বিভাগের জনবল প্রয়োজন মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতের একাডেমিক ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ। একই সঙ্গে নতুন একাডেমিক কার্যক্রম ও গবেষণাক্ষেত্রে কৌশলগত বিনিয়োগের জন্য সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করার লক্ষ্যও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও কর্মীদের ১৭ জুন অভ্যন্তরীণভাবে কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় অবসরের বিনিময়ে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পদ্ধতি হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০০৯–১০ অর্থবছরে এবং ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যেও একই ধরনের কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল।

ম্যাকেঞ্জি স্কটের অনুদান ঘিরে প্রশ্ন

হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির বর্তমান আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত বছর দাতব্য ব্যক্তি ম্যাকেঞ্জি স্কটের দেওয়া ৮ কোটি ডলারের অনুদানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউজলেটার দ্য ডিগ–এর তথ্য অনুযায়ী, স্কটের দেওয়া ওই অনুদানের মধ্যে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলে এবং ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনে দেওয়া হয়েছে।

এই বড় অঙ্কের অনুদান এবং বর্তমান আর্থিক পরিকল্পনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচির সঙ্গে অনুদানের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কর্মসূচি গ্রহণ করবেন কতজন, এখনো অনিশ্চিত

স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য যোগ্য ৬০০–এর বেশি শিক্ষক ও কর্মীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতজন এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

তবে কর্মসূচিটির মাধ্যমে একদিকে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মীদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে অবসরের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় তার ভবিষ্যৎ জনবল কাঠামো ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জনবল ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষা, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অগ্রাধিকার খাতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য।

ফলে স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচিটি শুধু কর্মীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নয়; বরং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স