ঢাকা

ফিলিস্তিনিদের পানির উৎসে বসতি স্থাপনকারীদের হস্তক্ষেপ, তীব্র হচ্ছে সংকট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রয়টার্স

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ভূমি দখল ও বসতি সম্প্রসারণের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এবার সেই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পানি। ফিলিস্তিনিদের কৃষি, গৃহস্থালি ও জীবিকার জন্য ব্যবহৃত পানির উৎস দখল করে তা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

প্রচণ্ড গরমের এক দিনে পশ্চিম তীরের ফাসায়েল গ্রামের কাছে একটি প্রাচীন পুলে সাঁতার কাটছিলেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত পানির প্রবাহ ঘুরিয়ে ওই পুলে পানি ভরা হয়েছে। ফলে একদিকে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য তৈরি হয়েছে বিনোদনের সুযোগ, অন্যদিকে পানির অভাবে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা।

ফাসায়েল গ্রামের কৃষক সাদ নেমারের ভাষায়, তাঁদের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, জীবিকা ও কৃষিজমির প্রয়োজনীয় পানি থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে পানির উৎসের ওপর তাঁদের পরিবার ও গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল ছিল, সেটিই এখন বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

এই ঘটনাকে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা বৃহত্তর একটি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের অভিযোগ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাপন কঠিন করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি, কর্মসংস্থান ও বসবাসের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে নিজেদের জমি ছেড়ে যেতে বাধ্য করার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

কৃষিজমির পানি ঘুরিয়ে দেওয়া হলো প্রাচীন পুলে

ফাসায়েল গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পানির উৎসটির সম্পর্ক বহু পুরোনো। জর্দান উপত্যকার কাছের এই উর্বর এলাকায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ওই ফোয়ারার ওপর নির্ভর করে আসছেন।

ইসরায়েলি পানির সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের কাছে এই প্রাকৃতিক পানির উৎসের গুরুত্ব আরও বেশি। এখানকার পানি ব্যবহার করে তাঁরা কৃষিজমিতে সেচ দেন, পরিবারের প্রয়োজন মেটান এবং জীবিকা চালান।

কৃষক সাদ নেমার জানান, গত জুনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তাঁর সেচের পাইপলাইন দখল করে নেয়। এরপর ওই পাইপলাইনের পানি একটি প্রাচীন পুলের দিকে প্রবাহিত করা হয়।

পরে বসতি স্থাপনকারীরা পুলটিকে ইসরায়েলি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেন। নেমারের অভিযোগ, বর্তমানে পুলটির চারপাশে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের কাজও চলছে।

তিনি বলেন, পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর কৃষিকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আগে তাঁর গ্রিনহাউস ও খেত বেগুন, স্কোয়াশ ও তরমুজে পূর্ণ থাকত। এখন পানির অভাবে শুষ্ক ও রোদে পোড়া জমিতে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।

নেমারের আশঙ্কা, শুধু তাঁর পরিবার নয়, পানির ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবারই এই পরিস্থিতিতে কাজ ও জীবিকা হারাতে পারে।

গ্রামবাসীর প্রবেশও সীমিত

পানির উৎসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নেমার।

তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে তাঁর এক কর্মচারী ফোয়ারাটির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে বসতি স্থাপনকারীরা তাঁকে মারধর করেছিলেন। তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে পুলটিতে সাঁতার কাটতে আসা ২১ বছর বয়সী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ইয়েশাই শ্রাইবার বলেন, এখন ফিলিস্তিনিরা সেখানে আসতে সাহস পাবেন না। তাঁর বক্তব্য, সেখানে ইহুদিদের বড় বড় দলকে গোসল করতে দেখে ফিলিস্তিনিরা ভয় পাচ্ছেন।

শ্রাইবার পশ্চিম তীরকে ইহুদিদের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেন এবং বলেন, ফিলিস্তিনিরা যদি ইহুদি কর্তৃত্ব মেনে নিতে না চান, তাহলে তাঁদের চলে যাওয়া উচিত।

তাঁর এই বক্তব্য পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে সামনে এসেছে—যেখানে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় দাবিকে অস্বীকার করে পুরো ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।

জমির মালিকানার দলিল দেখালেন কৃষক

নিজের জমি ও পানির উৎসের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে নেমার ২০২৫ সালের একটি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত দলিল দেখিয়েছেন। দলিলটি অধিকৃত অঞ্চলে বেসামরিক নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগ্যাটের (COGAT) জারি করা বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া তিনি ১৯৫৭ সালের একটি মানচিত্রও দেখান। তাঁর দাবি, ওই মানচিত্রে তাঁর জমির ভেতরে ফোয়ারা ও পুল—দুটিই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে কোগ্যাট এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাঁরা কোনো জবাব দেননি।

উত্তর জর্দান উপত্যকায় পানির উৎস দখলের অভিযোগ

ফাসায়েলের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলে দাবি করছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ও পানি বিশেষজ্ঞরা।

ফিলিস্তিনি মাঠগবেষক ফারেস ফোকাহার দাবি, উত্তর জর্দান উপত্যকার প্রায় ৯৫ শতাংশ ফোয়ারা এখন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে। তাঁর মতে, পানির উৎসগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলো ক্রমশ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ফিলিস্তিনি অঞ্চলে পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোর অন্তত ১৬০টি স্থাপনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামের সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও এই পরিস্থিতির আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা তিনটি বাড়ি ঘিরে রেখে পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘পানির যুদ্ধ’ চলছে

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আদেল ইয়াসিন মনে করেন, পানির উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।

তাঁর মতে, ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তিনি পরিস্থিতিটিকে ‘পানির যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইয়াসিনের ভাষায়, এটি এমন একটি ‘নীরব বুলেট’, যা কোনো শব্দ ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস করছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য পানির সংকট শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের সমস্যাই নয়। পশ্চিম তীরের বহু পরিবারের কৃষিকাজ সরাসরি পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল। পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে, ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং পরিবারগুলোর আয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ফলে পানির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকট ধীরে ধীরে ভূমি, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং বসবাসের অধিকারের সংকটে পরিণত হচ্ছে।

প্রাচীন পুল ঘিরে নতুন বিতর্ক

ফাসায়েলের কাছে যে পুলটি এখন বসতি স্থাপনকারীদের বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, সেটিকে ঘিরেও রয়েছে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের বিতর্ক।

জুনের শুরুতে কানাডাসহ কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নেতা এলিয়াভ লিবি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে ওই পুলে পানি ভরতে দেখা যায়।

লিবি এবং অন্যান্য বসতি স্থাপনকারীদের দাবি, পুলটি বাইবেলের সময়কার ইহুদি রাজা হেরোডের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ইসরায়েলি অধিকার সংগঠন ইমেক শেভের প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যালন আরাদ এই দাবির বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পুলটির প্রকৃত উৎস ও ইতিহাস এখনো স্পষ্ট নয়।

আরাদের অভিযোগ, পুলে পানি ভরার মাধ্যমে বসতি স্থাপনকারীরা শুধু স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছেন না, একই সঙ্গে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিরও ক্ষতি করছেন।

পর্যটনকেন্দ্র তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ

পুলটির বাইরে টানানো একটি বিলবোর্ডে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের পক্ষ থেকে ৩০ লাখ শেকেল বিনিয়োগের কথা প্রচার করা হয়েছে।

স্মোটরিচ নিজেও টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, হেরোডের পুল সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

ফলে ফিলিস্তিনিদের পানির উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং একই পানির উৎসকে ইসরায়েলি পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত করার অভিযোগটি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, স্থানীয় কৃষিজমির সেচের পানি যখন তাঁদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, তখন সেই পানি দিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে পানির বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর রাজনীতি

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ইসরায়েলের বর্তমান কট্টর ডানপন্থী জোট সরকার পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও প্রকাশ্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ও নীতিগত অবস্থানের মধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা স্পষ্ট।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ অবস্থান করছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ ও অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। ইসরায়েল অবশ্য পশ্চিম তীরকে ‘অধিকৃত অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকার না করে এটিকে বিতর্কিত ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে।

পানি এখন ভূমি দখলের নতুন হাতিয়ার?

পশ্চিম তীরে ভূমি দখল ও বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে পানির নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক নিয়ে ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলছে।

কৃষিজমিতে সেচের পানি বন্ধ হয়ে গেলে কৃষক জমি চাষ করতে পারেন না। দীর্ঘ সময় জমি অনাবাদি থাকলে কৃষকের আয় কমে যায়, কর্মসংস্থান নষ্ট হয় এবং পরিবারের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কোনো এলাকার পানির উৎসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালে পুরো একটি সম্প্রদায় তার বসবাসের সক্ষমতা হারাতে পারে।

ফাসায়েলের নেমারের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। তাঁর জমি রয়েছে, কিন্তু জমিতে পানি নেই। কৃষিকাজের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সেচের পানি নেই। ফলে জমি থাকা সত্ত্বেও জীবিকা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হলে শেষ পর্যন্ত মানুষ নিজের জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হতে পারে। আর তখন পানির উৎস ও জমি—দুটিই বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সংঘাতের নতুন মাত্রা

পশ্চিম তীরের সংঘাত এত দিন প্রধানত ভূমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা অভিযান ও সহিংসতার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচিত হয়েছে। এখন পানির উৎসের ওপর নিয়ন্ত্রণও সেই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

ফাসায়েলের প্রাচীন পুলটি তাই শুধু একটি পুলের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে পানি, কৃষি, ভূমি, পর্যটন, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ বসবাসের অধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে যে পানি ছিল কৃষিজীবনের ভিত্তি, সেটিই এখন বসতি স্থাপনকারীদের বিনোদনের উপকরণে পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। আর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছে একই স্থানকে দেখা হচ্ছে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দাবির অংশ হিসেবে।

এই বিরোধের মধ্যেই পশ্চিম তীরে পানি এখন শুধু জীবনধারণের উপকরণ নয়—ভূমি ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ফাসায়েলের পানির উৎস ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স