রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে স্কুলপর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ শিক্ষা প্রদর্শনী। আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির উদ্ভাবনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এআই প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম এক্সামবাইনারি লিমিটেড। তথ্যভিত্তিক শিক্ষণপ্রক্রিয়া ও সম্পূর্ণ এআই-চালিত ইন্টারফেসের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শতাধিক শিক্ষার্থী–শিক্ষকের উপস্থিতিতে এআইভিত্তিক শিক্ষা প্রদর্শনী
‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এআই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যক্তি বিশেষায়িত শিক্ষা’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজনে অংশ নেয় শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। প্রদর্শনীতে দেখানো হয় কীভাবে এআই শিক্ষা-অর্জনের প্রক্রিয়াকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং দক্ষতাভিত্তিক করতে পারে। পাশাপাশি স্কুলপর্যায়ে ডিজিটাল লার্নিং উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এ প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় ‘এক্সামবাইনারি ফিউচার-রেডি অ্যাডাপ্টিভ লার্নিং উইথ এআই’ শীর্ষক একটি সেমিনার। সেখানে বিশেষজ্ঞ বক্তারা ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার্থীর শেখার ধরণ বিশ্লেষণ করে পাঠ্যবিষয়কে আরও সহজবোধ্য ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।
মাস্টারি লুপ ও উইকনেস ম্যাপিং প্রযুক্তি পরিচিত করলেন উদ্ভাবকেরা
সেমিনারে এক্সামবাইনারির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) রাকিব সালেহ এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা সারজাহ ইয়াসমিন তাঁদের উদ্ভাবিত ‘মাস্টারি লুপ’ ও ‘উইকনেস ম্যাপিং’ প্রযুক্তি তুলে ধরেন। উপস্থাপনার মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে এআই–চালিত প্ল্যাটফর্মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেকচার প্ল্যান, ওয়ার্কশিট, প্রোগ্রেস রিপোর্ট এবং শেখার ট্র্যাকিং তৈরি করে দিতে পারে। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এমন সুবিধা, যার মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানের একাডেমিক অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে জানতে পারবেন।
শিক্ষায় বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্যে এআই–চালিত শিক্ষা
রাকিব সালেহ বলেন, “এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ব্যক্তিবিশেষায়িত শিক্ষা দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করবে। তারা একবিংশ শতাব্দীর লার্নিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের একাডেমিক যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারবে। আর এ লক্ষ্যেই শুরু করেছে এক্সামবাইনারির যাত্রা।”
সহপ্রতিষ্ঠাতা সারজাহ ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবে। বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা কাটিয়ে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতিতে ধারাবাহিক উন্নয়নের সুযোগ পাবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও এক্সামবাইনারির সেবায় উপকৃত হবেন।”
অল-ইন-ওয়ান লার্নিং সলিউশন: টেস্টিং, মক ইন্টারভিউ থেকে বাস্তব সমস্যা–সমাধান
এক্সামবাইনারিকে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য একটি অল-ইন-ওয়ান সলিউশন। প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে
-
মক ইন্টারভিউ সুবিধা,
-
বাস্তব সমস্যাভিত্তিক সমাধান চর্চা,
-
দক্ষতা–দুর্বলতার নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ,
-
এবং টেস্ট ফিচার, যা শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্স অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্দেশনা দেবে।
ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের ছয়টি প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করেছে এক্সামবাইনারি। আর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু করেছে মাস্টারি-বেজড এআই লার্নিং আর্কিটেকচার, যা দেশের স্কুলশিক্ষায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।