ঢাকা

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে গবেষণায় জার্মানির হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটিতে ফেলোশিপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে জার্মানির হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট (SAI) এবং ম্যাক্স ওয়েবার ফোরাম ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, দিল্লির যৌথ উদ্যোগে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন ফেলোশিপ কর্মসূচির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

এই ফেলোশিপের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান গবেষকেরা জার্মানিতে সর্বোচ্চ তিন মাস অবস্থান করে নিজেদের গবেষণা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা ইউরোপের একাডেমিক ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এবং হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।

ফেলোশিপ কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের তরুণ গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

তিন মাস গবেষণার সুযোগ

২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে এই ফেলোশিপ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত ফেলোদের গবেষণার মূল কর্মস্থল হবে জার্মানির হাইডেলবার্গ।

ফেলোশিপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে কাজ করা তরুণ গবেষকদের তাঁদের চলমান গবেষণা প্রকল্প আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে তাঁদের ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা অনুদান বা থার্ড-পার্টি ফান্ডিংয়ের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে সহায়তা করা।

অর্থাৎ, এটি শুধু স্বল্পমেয়াদি গবেষণা অবস্থানের সুযোগ নয়; বরং গবেষকদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে।

যেসব বিষয়ে গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন

দক্ষিণ এশিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শাস্ত্রে গবেষণা করছেন—এমন তরুণ গবেষকদের জন্য এই ফেলোশিপ উন্মুক্ত। বিশেষ করে ইথনোলজি বা নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ভূগোল, আধুনিক ভাষা ও দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য, দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস এবং ক্ল্যাসিক্যাল ইন্ডোলজির গবেষকেরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ফেলোশিপ চলাকালে নির্বাচিত গবেষকেরা তাঁদের নির্ধারিত গবেষণা প্রকল্পের ওপর কাজ করার পাশাপাশি হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, গবেষণামূলক ও একাডেমিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এর ফলে ফেলোরা শুধু নিজেদের গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগই পাবেন না, বরং ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পণ্ডিতদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফেলোশিপে আর্থিক সুবিধা

নির্বাচিত গবেষকদের জন্য ফেলোশিপে বেশ কিছু আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক যাতায়াত বা বিমানভাড়ার জন্য একজন ফেলো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত পাবেন। এর পাশাপাশি জার্মানিতে অবস্থানকালে আবাসন বা বাড়িভাড়ার খরচের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্বাচিত গবেষকদের প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো হারে ফেলোশিপ ভাতা দেওয়া হবে। ফলে গবেষকেরা হাইডেলবার্গে অবস্থান করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা পাবেন।

তবে ফেলোশিপের সময় শুধু ব্যক্তিগত গবেষণায় সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়াও কর্মসূচিটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে

ফেলোশিপে আবেদন করতে আগ্রহী গবেষকদের অনলাইনে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ এক পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত কভার লেটার। পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা দিতে হবে। সিভিতে আবেদনকারীর শীর্ষ ১০টি প্রকাশনার তালিকাও উল্লেখ করতে হবে।

এ ছাড়া ডক্টরাল বা পিএইচডি সনদের একটি অনুলিপি জমা দিতে হবে। নির্ধারিত টেমপ্লেট অনুসরণ করে গবেষণা প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণও আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে।

আবেদনকারীদের দুজন রেফারির তথ্যও দিতে হবে। এর বাইরে সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের কোনো সদস্যের একটি রেফারেন্স লেটার জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই রেফারেন্স লেটার বাধ্যতামূলক নয়; এটি ঐচ্ছিক হিসেবে রাখা হয়েছে।

আবেদনের শেষ সময় ১ ডিসেম্বর

২০২৭ সালের এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার শেষ সময় ১ ডিসেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে।

ফেলোশিপে নির্বাচিত গবেষকদের জার্মানিতে অবস্থানের সময় ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের দিল্লি অফিস প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

দক্ষিণ এশিয়ার গবেষকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে গবেষণা করা তরুণ শিক্ষাবিদদের জন্য এ ধরনের ফেলোশিপ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে। প্রথমত, একজন গবেষক নিজের দেশ বা অঞ্চলের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পান। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে যাঁরা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদানের জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এই ফেলোশিপের গবেষণা নেটওয়ার্ক ও প্রকল্প উন্নয়নের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গবেষণা প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য যৌথ গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তরুণ গবেষকদের জন্য তাই এই ফেলোশিপ আন্তর্জাতিক গবেষণা ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আগ্রহী গবেষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা: হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স