ঢাকা

একাদশে ভর্তি: আবেদন শুরু, ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ কলেজ বেছে নেওয়ার নিয়ম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে নির্বাচন করে আবেদন করতে পারবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি ২২০ টাকা।

ভর্তি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

অনলাইনে আবেদন যেভাবে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে হবে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। আবেদনকারীকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বাছাই পরীক্ষা বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করে। ওই নীতিমালাতেই ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির যোগ্যতা, আসন বণ্টন, কোটা, মেধাক্রম এবং আবেদন ও ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে।

২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর:
প্রথম ধাপে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ সময় পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে।

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর:
পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফলে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়েছে, তাদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। একই সময়ে রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবে।

১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা:
প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।

১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা:
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে ওই শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর:
একাদশ শ্রেণিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

২৩ সেপ্টেম্বর:
নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

অর্থাৎ, শিক্ষার্থীদের আবেদন থেকে শুরু করে নির্বাচন, নিশ্চয়ন ও চূড়ান্ত ভর্তি—সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে, ৭ শতাংশ কোটা

একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে এ বছর আসন বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসন কোটা হিসেবে সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য রাখা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। ভর্তির সময় এসব কাগজের মূল কপিও প্রদর্শন করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাইয়ের পরই এ কোটায় ভর্তি সম্পন্ন করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোটা আসন খালি রাখা যাবে না। ওই আসনে মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।

এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষা কোটায় কারা আবেদন করতে পারবে

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মোট ২ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মধ্যে—

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ;
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন রাখা হবে।

এ কোটায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

কোটায় আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্য থেকেই মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

জিপিএ সমান হলে যেভাবে মেধাক্রম নির্ধারণ

দুই বা একাধিক শিক্ষার্থীর জিপিএ সমান হলে শুধু জিপিএ দেখে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে না। এ ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। একইভাবে বিভিন্ন বছরের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরও সমতুল্য করে মেধাক্রম নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগে

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে একই জিপিএ ও একই মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে প্রথমে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

এর পরও জটিলতা থেকে গেলে পর্যায়ক্রমে—

১. ইংরেজি
২. পদার্থবিজ্ঞান
৩. রসায়ন

বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ ও মোট নম্বর সমান হলে পর্যায়ক্রমে—

১. ইংরেজি
২. গণিত
৩. বাংলা

বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে

এক বিভাগের শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির আবেদন করলে জিপিএ সমান হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

সেখানেও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে পাওয়া নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনে বিশেষ সতর্কতা

এবার একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষা কোটায় আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক চিঠিতে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই এ কোটার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাই এ কোটায় আবেদন করতে পারবে।

কেউ নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করলে এবং অনলাইনের বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।

ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে এবং মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। নির্ধারিত প্রমাণক দেখাতে ব্যর্থ হলে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হবে।

বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি এ কোটার সুবিধা পাবে না। ফলে এ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেউ কোটায় আবেদন করলে নির্বাচিত হওয়ার পরও তাকে ভর্তি করা হবে না।

শিক্ষা কোটায়ও যোগ্যতা যাচাই

মুক্তিযোদ্ধা কোটার পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ইকিউ–১ ও ইকিউ–২ কোটায় আবেদনকারীদেরও যোগ্যতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেউ এসব কোটায় আবেদন করলে এবং নির্বাচিত হলেও কলেজে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

ইকিউ–১: শিক্ষা কোটা–১

এ কোটায় আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সন্তান হতে হবে।

ইকিউ–২: শিক্ষা কোটা–২

এ কোটায় আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নির্ধারিত ২৮টি দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান হতে হবে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি স্কুল, সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও এ কোটার সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

এ কোটায় আবেদনকারীদেরও নির্ধারিত যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।

আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম নির্ধারণে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারবে। তাই শুধু একটি বা দুটি পছন্দের কলেজের ওপর নির্ভর না করে নিজের ফল, পছন্দের বিষয়, কলেজের আসনসংখ্যা ও ভর্তি-সম্ভাবনা বিবেচনা করে পছন্দক্রম সাজানো উচিত।

বিশেষ করে কোনো কোটায় আবেদন করার আগে সেই কোটার প্রকৃত যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র না থাকলে অনলাইনে নির্বাচন হলেও পরবর্তী সময়ে ভর্তি আটকে যেতে পারে।

এ ছাড়া আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল দেখা এবং নির্বাচিত হলে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চয়ন না করলে আবেদন ও নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে।

সবশেষে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের কলেজগুলোতে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স