ঢাকা

মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানে একাধিক হামলার পর জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

ইরানের দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি, উত্তর ইরাকের এরবিলে মার্কিন স্থাপনা এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

তবে ইরানের এসব হামলায় হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান। জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলেও বেশির ভাগই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন ইরানের ভূখণ্ড ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি

আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার হ্যাঙ্গারগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন এবং ঘাঁটির কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।

তবে এসব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডান। দুই দেশই হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে—এমন দাবি নাকচ করেছে।

এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ থাকা মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাক লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোরও দাবি করেছিল আইআরজিসি। ইরানের দাবি ছিল, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পের কয়েকটি স্থাপনা ও একটি ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের বক্তব্যে এমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

জর্ডানের আকাশে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের হামলার বিষয়ে জর্ডানের সামরিক বাহিনী ভিন্ন চিত্র দিয়েছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়।

অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে জর্ডান। এতে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানানো হয়েছে।

দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র এসব তথ্য জানান।

এদিকে আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি মার্কিন সূত্রও ক্যাম্প তিতিনে হামলার পর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে। সূত্রটির ভাষ্য, মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার একটি গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।

এ ছাড়া ঘাঁটির একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

তবে ইরানের এই দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এমন হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরাকে মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক ও প্রশিক্ষণ স্থাপনা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাত তীব্র হলে এসব ঘাঁটি ইরানি হামলার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুয়েতে ড্রোন প্রতিহত

কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় ড্রোন হামলার ঘটনা জানিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ প্রতিহত করেছে।

কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার ফলে হয়েছে।

কুয়েতের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানের কারণে কুয়েতও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে কুয়েতের সামরিক স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা

বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান এবং রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়ার কথাও জানিয়েছে ইরান।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, এই হামলা ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ।

ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি, শেখ ইসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ঘাঁটিটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি এবং নজরদারি উড়োজাহাজ পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয় বলে দাবি করেছে তারা।

বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সেখানে ইরানি হামলার দাবি উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার জবাব দেওয়ার দাবি

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, সিরিকের একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ওই হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তেহরান ঘটনাটিকে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর জবাব দেওয়ার হুমকি দেয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলাকে বেসামরিক মানুষের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

দক্ষিণ ইরানে একাধিক এলাকায় মার্কিন হামলা

মঙ্গলবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আল–জাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের এসব এলাকার অনেকগুলোই সামুদ্রিক বন্দর, সামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব এলাকায় সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জুলাইয়ের পর আবার সরাসরি সংঘাত

গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দেন। এর পর মঙ্গলবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং তার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক অবস্থানে ইরানের হামলার দাবি সামনে আসে।

ফলে সংঘাতটি এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি ছাড়িয়ে গেছে। জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এসব দেশও সংঘাতের সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের পাল্টা হামলার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত করলে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের সর্বশেষ হামলার পর এই হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, এক পক্ষের হামলার পর অন্য পক্ষ পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং প্রতিটি নতুন হামলার সঙ্গে সংঘাতের পরিধি বাড়ছে।

বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা ওয়াশিংটনের জন্য নতুন সামরিক ও কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে।

আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার সর্বশেষ পর্বে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার। ইরানের বাইরে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে এসব দেশ নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে এবং ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোও সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

ইরান যদি ভবিষ্যতে আরও মার্কিন সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার জবাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক অভিযানের পক্ষে আলাদা ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের অনেক তথ্যই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই একের পর এক পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স