ঢাকা

ভারতের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ, আইসিএআর ফেলোশিপে আবেদনের যোগ্যতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ গবেষকদের জন্য ‘নেতাজি সুভাষ আইসিএআর ইন্টারন্যাশনাল ফেলোশিপ’ কর্মসূচিতে আবেদন চলছে। এই ফেলোশিপের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর)–এর আওতাভুক্ত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ডক্টরাল বা পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই ফেলোশিপের মাধ্যমে নির্বাচিত গবেষকেরা ভারতের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পূর্ণকালীন ডক্টরাল গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন। উন্নত গবেষণার পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী গবেষকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।

৩০টি ফেলোশিপ, মেয়াদ তিন বছর

চলতি বছরের কর্মসূচিতে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ দেওয়া হবে। প্রতিটি ফেলোশিপের মেয়াদ তিন বছর। এই সময় নির্বাচিত গবেষকেরা ভারতের শীর্ষস্থানীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পূর্ণকালীন ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ফেলোশিপটি মূলত কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান বা ‘অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস’–এর বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য। ফলে কৃষি, কৃষিপ্রযুক্তি এবং এ-সংক্রান্ত গবেষণায় একাডেমিক ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর

২০২৬ সালের ফেলোশিপের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া আবেদন বিবেচনা করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আগ্রহী প্রার্থীদের তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের আগে প্রার্থীদের নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার বিষয় এবং অন্যান্য শর্ত ফেলোশিপের বিস্তারিত নির্দেশিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে আবেদন করতে হবে

ফেলোশিপে আবেদনের বিস্তারিত নির্দেশিকা, যোগ্যতার শর্ত, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গবেষণার ক্ষেত্র এবং আবেদন প্রফর্মা আইসিএআরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

প্রার্থীদের প্রথমে আইসিএআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পূর্ণ আবেদন নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে।

আবেদন পাঠানোর জন্য adg.hrd.applications@gmail.com ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় ই-মেইলের সাবজেক্ট লাইনে সংশ্লিষ্ট ফেলোশিপ বা আবেদনের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশনা রয়েছে।

আবেদনকারীদের কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা বা প্রয়োজনীয় নথি বাদ না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাট ও নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে।

কোন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ

এই ফেলোশিপের মূল ক্ষেত্র হলো কৃষি ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান। অর্থাৎ কৃষি উৎপাদন, কৃষিপ্রযুক্তি এবং অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেসের বিভিন্ন শাখায় ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

তবে কোন কোন বিষয়ে ওই বছর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ রয়েছে এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার শর্ত কী—এসব তথ্য আবেদন করার আগে আইসিএআরের প্রকাশিত বিস্তারিত গাইডলাইন থেকে দেখে নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ

কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান বর্তমানে খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই কৃষি, কৃষিপ্রযুক্তি ও গ্রামীণ অর্থনীতির মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ কারণে এসব বিষয়ে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ তরুণ গবেষকদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

ভারতের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছরের পূর্ণকালীন ডক্টরাল গবেষণার সুযোগের পাশাপাশি এই ফেলোশিপ বাংলাদেশি গবেষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগও তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং একাডেমিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবেদন করার আগে যা দেখবেন

আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আগে আইসিএআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও গাইডলাইন ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসংক্রান্ত শর্ত থাকলে তা, গবেষণার ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন ফরমের ধরন এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয়গুলো যাচাই করে আবেদন করতে হবে।

ফেলোশিপের বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশিকার জন্য আইসিএআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.icar.org.in দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভারতের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল গবেষণার এই সুযোগ কৃষিবিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার একটি সম্ভাবনাময় পথ তৈরি করতে পারে। তবে আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ও আইসিএআরের প্রকাশিত যোগ্যতার শর্তই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স