ঢাকা

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সুপারিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ কর্মী; ছয়টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বিমানের

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীরা যাতে কোনো ধরনের অবহেলা, হয়রানি বা দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর কার্যক্রম, রেমিট্যান্স প্রবাহ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫৯০। একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার তথ্য বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং কমিটির সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম ও আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে নজরদারির তাগিদ

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া কর্মীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরে তাঁদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। প্রবাসী কর্মীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের যেন অবহেলা বা হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বন্ধে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ছয়টি নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বিমানের

এদিকে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বর্তমানে ১৫টি দেশের ২৩টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ সংস্থা। ভবিষ্যতে আরও ছয়টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন গন্তব্য হিসেবে মালদ্বীপের মালে, চীনের কুনমিং ও উহান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া বাহরাইনে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ক্যাটাগরি-১ অর্জনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

লাভজনক রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা

বিমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রণীত ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ফ্লিট প্ল্যান’ অনুসারে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানে লাভজনক রুটগুলোতে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা গেলে নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিমানের বহরে বর্তমানে নিজস্ব ১৯টি উড়োজাহাজসহ মোট ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু এবং বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হবে।

বর্তমানে ১৫ দেশের ২৩ গন্তব্যে ফ্লাইট

বিমানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা; সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি; ভারতের দিল্লি ও চেন্নাই; যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার। এ ছাড়া ওমান, কুয়েত, কাতার, ইতালি, কানাডা, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক গন্তব্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান লাভজনক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন রুট চালুর বিষয়টি উড়োজাহাজ সংগ্রহ, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং কমিটির সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত যাচাই: প্রকাশের আগে দুটি বৈঠকের সঠিক তারিখ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিমানের বর্তমান ২৩টি গন্তব্যের তালিকা, ১৫টি দেশের হিসাব এবং নতুন ছয়টি গন্তব্যের তথ্যও মূল প্রতিবেদন থেকে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তালিকায় কয়েকটি দেশের নামের পাশাপাশি আলাদা শহরের নাম দেওয়া হয়েছে; তাই দেশ ও গন্তব্যের সংখ্যা নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স