ঢাকা

বসুন্ধরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উঠল প্রশ্ন, আলোচনায় সংসদীয় কমিটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জমি কেনাবেচা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সেবা নিয়ে অভিযোগ; পূর্বাচলে প্লট বাতিলের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিয়েও আলোচনা

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সেখানে জমি কেনাবেচা কীভাবে হয় এবং বিভিন্ন সেবা নিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয় কি না—এসব প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে। বৃহস্পতিবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার সময় কমিটির কয়েকজন সদস্য এসব বিষয় উত্থাপন করেন। তাঁদের অভিযোগ, বসুন্ধরা এলাকায় জমি কেনাবেচা থেকে শুরু করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা পরিচালনায় বসুন্ধরা গ্রুপের প্রভাব রয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, একজন সদস্য আলোচনায় বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব লোকজন। সেখানে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে গ্রুপটিকে কমিশন দিতে হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি ডিশ লাইনের সংযোগ নিতেও তাদের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ভাষ্য, এ পরিস্থিতি একটি রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠার মতো।

কমিটির আরেক সদস্য জানতে চান, বসুন্ধরা এলাকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং সেখানে জমি কেনাবেচার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়। জবাবে রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাগজে-কলমে এলাকাটি মূলত সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। তবে সেখানে সিটি করপোরেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কমিটির সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক প্রথম আলোকে বলেন, বসুন্ধরাকে ঘিরে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আলাদা রাজত্ব ও প্রশাসনের মতো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেখানে হোল্ডিং কর আদায়, জমি বিক্রির ক্ষেত্রে কাঠাপ্রতি অর্থ নেওয়া, ড্রেন নির্মাণ এবং ডিশ লাইনের সংযোগ দেওয়ার মতো কাজেও বসুন্ধরা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় তিনি কমিটির বৈঠকে তুলে ধরেছেন বলে জানান।

তবে বৈঠকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট সেবা পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজউকের কার্যক্রম ও প্রকল্প পর্যালোচনা

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এসব আলোচনার পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ, জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার এবং অতীতে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়ও উঠে আসে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিলের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্লট বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে রাজউকের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকায় নতুন করে প্লট বরাদ্দ না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তবে রাজউকের নিজস্ব জমিতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

পূর্বাচলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্লট দ্রুত নিশ্চিতের সুপারিশ

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অতীতে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে কমিটি। প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও এ সুপারিশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কমিটি নতুন ভূমিনির্ভর আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এতে সীমিত জমির অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরায়ণের চাপ মোকাবিলায় পরিকল্পিত আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

বৈঠকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সেবা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের পাশাপাশি রাজউকের আবাসন প্রকল্প, প্লট বরাদ্দে স্বচ্ছতা এবং জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত সতর্কতা: বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচা, অর্থ আদায়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সেবা পরিচালনা নিয়ে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকাশের আগে বসুন্ধরা গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের বক্তব্য নেওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স