খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৫ নভেম্বর, দাবি-আপত্তি ও সংশোধনের শেষ সময় ২০ নভেম্বর; চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা স্থানান্তরের আবেদন করার শেষ সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, এমন যোগ্য ব্যক্তিরাই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ২৫ নভেম্বর।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের জারি করা দুটি পৃথক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি এবং খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটার এলাকার তথ্য নির্ভুল করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
ভোটার হওয়ার যোগ্যতার তারিখ ৩১ অক্টোবর
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য যোগ্যতা অর্জনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর ২০২৬।
এ ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, তাঁদের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত এই সময়সীমা অনুযায়ী, ভোটার হওয়ার বয়স ও নিবন্ধনের শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৫ নভেম্বর
ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত করে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিংক পাঠানোর কাজ শেষ করতে হবে।
এর পরদিন, অর্থাৎ ৫ নভেম্বর হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকায় কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, ব্যক্তিগত তথ্যে ভুল রয়েছে কি না কিংবা অন্য কোনো অসংগতি আছে কি না, তা যাচাই করার সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্ট ভোটাররা।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নাম অন্তর্ভুক্তি, তথ্য সংশোধন এবং তালিকার অন্যান্য ভুলত্রুটি নিয়ে দাবি-আপত্তি জানানো যাবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এসব আবেদন ও আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ নভেম্বর। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৫ নভেম্বর হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ভোটার এলাকা। আবাসস্থল পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে কেউ অন্য এলাকায় বসবাস শুরু করলে তাঁকে নতুন এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করতে হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পৃথক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩১ অক্টোবর। এ সময়ের মধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
খসড়া তালিকা পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি কিংবা তথ্যের ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য জনগণকে আবেদন করতে উৎসাহিত করতে হবে।
এ উদ্দেশ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে ইমাম ও পুরোহিতদের মাধ্যমে নামাজ বা প্রার্থনার আগে কিংবা পরে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক ও কেবল অপারেটরদের সহযোগিতায় জনস্বার্থে প্রচার চালানোর ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে ভোটাররা খসড়া তালিকা প্রকাশের তথ্য জানতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন বা দাবি-আপত্তির আবেদন করতে পারবেন।
নারী-পুরুষ ও ধর্মসংক্রান্ত ভুল সংশোধনের নির্দেশ
ভোটার তালিকার তথ্যগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকায় পুরুষ ভোটারের তালিকায় কোনো নারী ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া কিংবা নারী ভোটারের তালিকায় কোনো পুরুষ ভোটারের নাম চলে আসার মতো অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ছাড়া ভোটারের ধর্মসংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য ভুলত্রুটি শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। খসড়া তালিকা যাচাইয়ের সময় এসব বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় নাম, লিঙ্গ, ধর্ম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের অসংগতি থাকলে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংশোধন করা জরুরি। কারণ, ভুল তথ্যের কারণে ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভোটার এলাকা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার এলাকার গুরুত্ব শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো ব্যক্তি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সময়সীমা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যাঁরা আবাসস্থল পরিবর্তন করেছেন বা নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে ভোটার এলাকার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে চান, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে ৫ নভেম্বরের মধ্যে। একই সময়ে ভোটার তালিকার খসড়া প্রস্তুত ও প্রকাশের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর দাবি-আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি শেষে ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, তথ্যের ভুল সংশোধন এবং ভোটার এলাকা স্থানান্তরের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের এ নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে।