ঢাকা

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা: ৬টি জরুরি নির্দেশনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণসংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্তাবলী নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নিচে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:


১. জিপিএ মানোন্নয়ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়মাবলী

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এবং জিপিএ ৫.০০-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালে জিপিএ উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ (২০২৬ সালের) সিলেবাসে সব বিষয়ে অংশ নিতে হবে। নতুন ফলাফলে জিপিএ উন্নত হলে তা গ্রহণ করা হবে; অন্যথায় পূর্বের জিপিএ বহাল থাকবে। আবেদনের সময় পূর্বের প্রবেশপত্র ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি ফরমের সাথে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।


২. বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পুনরায় অংশ নেওয়ার সুযোগ

কোনো পরীক্ষার্থী পূর্বে বহিষ্কৃত হয়ে থাকলে এবং তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে, তবে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে সে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে। তবে তাকে পূর্বের শাস্তিমুক্ত হয়ে সব বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।


৩. চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা লাভের নির্দিষ্ট শর্ত

২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যেসব রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এছাড়া উক্ত শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী পূর্বের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ১ থেকে ৪টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল, তারা ২০২৭ সালে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ হতে পারলে পূর্বের চতুর্থ বিষয়ের প্রাপ্ত সুবিধা বহাল থাকবে।


৪. সিলেবাস ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন নম্বর সংক্রান্ত নিয়ম

অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে, নতুন নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী অংশ নেবে। সকল শিক্ষার্থীর জন্য 'শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা' এবং 'ক্যারিয়ার এডুকেশন' বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রে পাঠাবে। কেন্দ্রগুলো উক্ত নম্বর ব্যবহারিক নম্বরের সাথে বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠানোর পাশাপাশি মূল নম্বর ফর্দ বোর্ডে জমা দেবে।


৫. নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা ও নিয়ম

জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী এবং যারা পূর্বে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের জন্য নির্বাচনি পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে এই দুই শ্রেণী ছাড়া অন্য সকল শিক্ষার্থীর জন্য ফরম পূরণের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।


৬. অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ ও রেজিস্ট্রেশন

নতুন অনিয়মিত: ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সেশনের যেসব শিক্ষার্থী পূর্বের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনিয়মিত হিসেবে সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।


আংশিক অকৃতকার্য (২০২৬): ২০২৬ সালে ১ম থেকে ৪র্থ বিষয়ে অকৃতকার্যরা চাইলে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে বা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।


আংশিক অকৃতকার্য (২০২৫): ২০২৫ সালে ১ থেকে ৩ বিষয়ে অকৃতকার্যরা আগের অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে, তবে আংশিক বিষয়ে পরীক্ষা দিলে চতুর্থ বিষয় পরীক্ষা দেওয়া যাবে না।


বিশেষ নবায়ন (২০২২-২৩): ২০২২-২৩ সেশনের যেসব শিক্ষার্থীর মেয়াদের শেষ বর্ষে কেবল ১টি বিষয়ে অকৃতকার্য রয়েছে, তারা বিশেষ বিবেচনায় ১ বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড জমা দিয়ে নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।


(দ্রষ্টব্য: অনিয়মিতদের পূর্বে উত্তীর্ণ বিষয়গুলোর জিপি সংরক্ষিত থাকবে এবং নতুন পরীক্ষার ফলাফলের সাথে সমন্বয় করে চূড়ান্ত জিপিএ নির্ধারণ করা হবে।)


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স