বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিবাসীরা যদি আমেরিকান জনগণের কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য হারে কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তাদের নতুন ভিসা দেওয়া নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। নতুন ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহার করবে না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, ৭৫টি দেশের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হচ্ছে, যদিও পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার তালিকা
এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের সাহায্য গ্রহণের হার পুনর্মূল্যায়ন করার উদ্যোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত তালিকায় দেখিয়েছেন, কোন দেশের নাগরিকরা কত শতাংশ সরকারি সহায়তা নিচ্ছে। ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯তম। তালিকার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের ৫৪.৮ শতাংশ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে তালিকায় রয়েছে ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নেপাল, তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাম তালিকায় ছিল না।
৭৫টি দেশের তালিকা
ফক্স নিউজের সূত্রে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ নিম্নলিখিত দেশগুলোর নাম রয়েছে:
আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো (ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক), ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো (রিপাবলিক), রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন।
বাংলাদেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক জরিপ প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠী অভাবনীয় হারে বেড়েছে। ২০০০ সালে মাত্র ৪০ হাজার, ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার, যা ৫৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
ওয়াশিংটন থেকে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। তবে অভিবাসীদের সরকারি সহায়তা গ্রহণের তথ্য প্রকাশের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের নতুন অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হবে এবং বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো পুনর্মূল্যায়নের মধ্যে থাকবে।