কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মসজিদগুলোর খুঁটিনাটি তথ্য পুলিশকে জানাতে নির্দেশ দেয়ার নতুন পদক্ষেপে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই উদ্যোগকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
পুলিশ জানতে চেয়েছে, প্রতিটি মসজিদ কখন তৈরি হয়েছে, নির্মাণ কাঠামো, খরচ, অনুদানদাতা, মসজিদ পরিচালনার ব্যয় ও বার্ষিক আয়, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ।
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
মিরওয়াইজ উমর ফারুখের নেতৃত্বাধীন মুত্তাহিদা মজলিস উলেমা (এমএমইউ) পুলিশি পদক্ষেপকে ‘আক্রমণাত্মক তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
জম্মু–কাশ্মীরের শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য আগা রুহুল্লাহ মেহেদি বলেছেন, “দক্ষিণপন্থী আদর্শ এখন ধর্মকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, যারা এই আদর্শের সঙ্গে সহমত নয় তাদেরও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে।”
একই ধারায় আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি) বলেছে, পুলিশ মসজিদের তদারকি ও ধর্মাচরণ নজরবন্দি করার চেষ্টা করছে। দলের মুখপাত্র ইনাম উন নবি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এটি নিরাপত্তা নয়, মানুষকে স্রেফ ভয় দেখানো।”
কেন্দ্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
জম্মু–কাশ্মীরের নির্বাচিত সরকার পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী নয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে, যা পরিপ্রেক্ষিতে উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এর সম্মতি ছাড়া কোনো স্থানীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না।
এমএমইউ এবং অন্যান্য সংগঠন অবিলম্বে এই পদক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের পুলিশি তৎপরতা ভয় ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করবে এবং সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বিষয়টি নজরে এনেছে, যেখানে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ আগের তুলনায় এই অঞ্চলে অদ্ভুত ও বিতর্কিত।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগ স্বীকার করেনি। তবে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ফর্ম ভর্তি করে প্রতিটি মসজিদ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা শুরু হয়ে গেছে।