ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি কে মাত্র দুই দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেই সাজা কার্যকর হওয়ার কথা। এ ঘটনায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভয় ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এরফান সোলতানি তেহরানের উত্তর-পশ্চিমের কারাজ শহরের ফারদিস এলাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে, তখন শহরে বিক্ষোভ তুঙ্গে ছিল এবং ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
দ্রুত বিচার ও মানবাধিকার উদ্বেগ
হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, যা ইরান ও কুর্দিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, জানিয়েছে, “এত দ্রুত কোনো মামলার বিচার আগে কখনো দেখিনি।”
এরফানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাজা ঘোষণার মাত্র তিন দিন পরই কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরফানের সঙ্গে শেষবারের জন্য দেখা করতে পরিবারের মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
এরফানের বোন, যিনি নিজেও ইরানের একজন নিবন্ধিত আইনজীবী, ভাইয়ের হয়ে আইনি লড়াই চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ মামলার নথিপত্র হাতে দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে।
হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, “এ মামলা প্রমাণ করছে, ইরান সরকার জনগণকে দমন ও ভয় ছড়াতে তাদের জানা প্রতিটি কৌশল ব্যবহার করছে।”
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট
২০২২ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হলেও দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ দেশের বড় অংশে ছড়িয়ে গেছে।
দুই সপ্তাহের বেশি চলা আন্দোলনে নিহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১২ শিশু রয়েছেন।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এরফানের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।” তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইরান সরকার meanwhile বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।