ঢাকা

এজলাসে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন বরিশালের ১০ আইনজীবী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বরিশালে আদালতের এজলাসে হট্টগোল, ধাক্কাধাক্কি, ভাঙচুর এবং বিচারককে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১০ আইনজীবী আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাঁদের এই ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট রুল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন।

বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

অন্য যেসব আইনজীবী ক্ষমা চেয়েছেন, তারা হলেন সমিতির সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর পিপি নাজিম উদ্দিন পান্না, আইনজীবী মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আবদুল বারেক, আবদুল মালেক, সাঈদ এবং হাফিজ খান বাবু।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা দায়িত্বরত বিচারকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং এজলাসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বরিশাল মহানগর দায়রা জজের মাধ্যমে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আবেদন পাঠান। সেই আবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হলে আদালত বিষয়টি আমলে নেন।

এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ১০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং কেন শাস্তি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়।

পরবর্তী ধার্য তারিখে বুধবার অভিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তাঁদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান রায়হান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

শুনানি শেষে আদালত তাঁদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করে রুল নিষ্পত্তি করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। এর ফলে অভিযুক্ত আইনজীবীরা এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স