ঢাকা

জামায়াতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনলেন বিএনপি নেতা রিজভী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করেছে এবং বর্তমানে দলটির ভেতরে ‘গুপ্ত চাঁদাবাজ’ রয়েছে, যারা ‘হাদিয়ার নামে চাঁদাবাজি’ করছে।

রোববার দুপুরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

‘ধর্মের অপব্যবহার ও অপকর্ম আড়াল করার অভিযোগ’

রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের কথিত অপকর্ম ঢাকতে ধর্মকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমালোচনার পরিবর্তে দলটি সরকারের বিরুদ্ধে ‘কুৎসা ও মিথ্যাচার’ করছে।

তার ভাষায়, জামায়াতের উচিত ছিল সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করা, কিন্তু তারা তা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে।

‘ধর্মভীরু সমাজ ও রাজনৈতিক অবস্থান’ প্রসঙ্গ

বক্তব্যে রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও জামায়াতে ইসলামীকে তারা গ্রহণ করে না। একই সঙ্গে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, ভালো সংস্কৃতির দিকগুলো গ্রহণ করা গেলেও দেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে এমন প্রবণতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জাসাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য

এই মন্তব্যগুলো তিনি করেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের এই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক উত্তাপের প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বাড়ছে। বিশেষ করে সাংগঠনিক অর্থ সংগ্রহ, রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অবস্থান নিচ্ছে।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রিজভীর বিভিন্ন মন্তব্যের সমালোচনা করা হয় এবং তার বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হয়েছিল। সর্বশেষ এই মন্তব্য সেই চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভাষ্যগুলো মূলত দলীয় ভিত্তি শক্ত করা এবং সমর্থকদের মনোভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ। তবে এ ধরনের বক্তব্য জনপরিসরে উত্তাপ বাড়ালেও রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।

তাদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন বক্তব্য বিনিময় আরও বাড়তে পারে, যা জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক আস্থাহীনতা বৃদ্ধি করবে।

এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স