ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তায় তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন মাত্রা
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সভায় এখন থেকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। তাঁর বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:
সামাজিক প্রভাব: ধর্মীয় নেতারা সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি যুক্ত থাকেন, তাই অপরাধ দমনে তাঁদের পরামর্শ অত্যন্ত কার্যকর হবে।
সম্প্রীতি রক্ষা: বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
স্বনির্ভরতার সুযোগ: দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতারা যদি কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান, তবে সরকার তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
সরকারের চলমান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন:
ফ্যামিলি কার্ড: অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য এটি ইতিমধ্যে চালু হয়েছে।
ফার্মার্স বা কৃষক কার্ড: আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) থেকে দেশব্যাপী এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে।
খাল খনন কর্মসূচি: আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে এই বিশাল প্রকল্পের সূচনা হবে।
সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের পরিসংখ্যান
ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে:
মসজিদ: ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন।
মন্দির: ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত।
বৌদ্ধবিহার: ১৪৪টি বিহারের অধ্যক্ষ।
মোট উপকারভোগী: ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা বর্তমানে মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে ধর্মীয় নেতারা কেবল উপাসনালয় নয়, বরং রাষ্ট্র গঠনেও সমানভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক