বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২২৬ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন (৩৪.২২৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিত 'বিপিএম৬' পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাব করলে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন (২৯.৫৬৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। আমদানির ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রিজার্ভের এই প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ও প্রবাসীদের জোরালো ভূমিকা
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এক ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২৫ দশমিক ৪০১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১ দশমিক ০২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে গত বছরের মে মাসের একই সময়ে এসেছিল ৮৬৪ মিলিয়ন ডলার। কেবল ৭ থেকে ৯ মে—এই তিন দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৭ মিলিয়ন ডলার।
নেপথ্যের কারণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে সরকারের সময়োপযোগী প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও হয়রানিমুক্ত হওয়ার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা এই ইতিবাচক ধারার প্রধান চালিকাশক্তি। রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থান দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বড় প্রকল্পগুলোর বিনিয়োগ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাড়তি সাহস জোগাবে।
প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।