নোয়াখালীর Begumganj Upazila-এ মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে Bangladesh Jamaat-e-Islami–এর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ওই ব্যক্তির নাম মাইনুল ইসলাম ওরফে মাহিন (২৪)। তিনি উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
গত রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থলে মুখোশধারীদের অতর্কিত হামলা
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় মাহিন নিজ বাড়ির সামনে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় সিএনজিচালিত দুটি অটোরিকশা ঘটনাস্থলের সামনে এসে থামে।
এরপর ওই অটোরিকশা থেকে নেমে চার থেকে পাঁচজন মুখোশধারী ব্যক্তি টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে মাহিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলার ধরন ও প্রস্তুতি দেখে এটি পরিকল্পিত আক্রমণ ছিল বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
গুলিবিদ্ধ হয়ে মাহিনের ডান হাঁটুতে দুটি গুলি লাগে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত অটোরিকশায় উঠে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি
স্থানীয়রা দ্রুত আহত মাহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে Noakhali 250 Bed General Hospital–এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলির আঘাত গুরুতর হওয়ায় বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে
নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “গুলিবিদ্ধ মাহিন আমাদের সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে।”
তবে তিনি হামলাকারীদের পরিচয় বা কারা এর পেছনে থাকতে পারে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে মনে হচ্ছে।”
এলাকায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় মুখোশধারীদের এমন সশস্ত্র হামলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই হামলাকারীদের শনাক্তের বিষয়ে অগ্রগতি আসতে পারে।