১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বিএনপি–মুখ্য ১১ দলীয় জোট সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার জন্য আগামীকাল রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছে। অনুরোধ মেনে না নিলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঐক্য।
শনিবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে ১১–দলীয় ঐক্য। শিগগিরই শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বৈঠক ও সমন্বয়
সকাল ১১টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামীকাল ১৫ মার্চ সরকারের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এই সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকারের প্রতিফলন হয়নি। নির্বাচনে হাঙ্গামা কম হলেও জন–আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়নি। এরপরও জাতীয় স্বার্থে নির্বাচন মেনে নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য।”
জুলাই সনদ ও গণভোট
হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য ভোট হয়েছে। এটি কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন ইউটার্ন নিয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য।
প্রশাসক নিয়োগ ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’
ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকা উচিত। প্রশাসক নিয়োগ মানে নির্বাচন বিলম্ব এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নতুন ষড়যন্ত্র। জনগণের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার যেন তা প্রত্যাহার করে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন ঢালাওভাবে দলীয়করণ এবং প্রশাসনিক রদবদল হচ্ছে। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত মানে না, তাঁদেরকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে, কারণ পেশাদারিত্ব নষ্ট হচ্ছে।”
আন্দোলনের রূপরেখা
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, “বেছে বেছে সংস্কার করলে রাষ্ট্রের মূল সংস্কার হবে না। জনগণ গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে রায় দিয়েছে, তাই এটি মানা জরুরি।”
সংসদ অধিবেশন নিয়ে মন্তব্য
রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়ে তিনি জানান, “নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর স্বৈরাচারের দোসর যাতে বক্তৃতা দিতে না পারে, সেটি মানা হয়নি। বিএনপি বিরোধী ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্রপতির অবমাননা হয়নি, বরং স্বৈরাচারের দোসরের বক্তৃতার সুযোগ দিয়ে বিএনপি সংসদকে কলুষিত করেছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নেয়ামুল বশির প্রমুখ।
১১–দলীয় ঐক্য সরকারের প্রতি সংবিধান সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের দাবিতে এবার রোববার পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে এবং না মানলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।