ঢাকা

সতর্কতামূলক বার্তা নিয়ে যা বললেন ডিবি প্রধান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পুলিশের জন্য জারি করা নির্দেশনাটি মূলত সতর্কতা আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মাঠপর্যায়ের সদস্যরা যাতে দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকেন, সেটিই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, দায়িত্ব পালনের সময় যানবাহন নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে থানা, পুলিশ লাইনস ও অন্যান্য স্থাপনায় রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনা এবং যানবাহনের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে কয়েকটি বোমা-সংক্রান্ত ঘটনা ও বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সদস্যদের আবারও সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের সতর্কতামূলক নির্দেশনা নতুন নয়। অতীতেও একই ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন ও প্রস্তুত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি আইইডি উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি বস্তা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। এছাড়া আশুলিয়ায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক বিস্ফোরকও নিষ্ক্রিয় করা হয়। সর্বশেষ মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা পরীক্ষা করে তাতে বিস্ফোরক না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।

মতিঝিলে আইইডি উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট আনুষ্ঠানিক তদন্ত করছে। পাশাপাশি ডিবিও পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং কোনো উদ্দেশ্য বা মতাদর্শকে সামনে রেখেই সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স