ঢাকা

এএফপি: হরমুজ প্রণালি নিয়ে বুধবারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
এএফপি, ওয়াশিংটন

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের সঙ্গে আগামী বুধবারের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মতে, এমন একটি চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতাও অনেকটাই কমে আসবে।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

তিনি বলেন,

“আমরা ইরানিদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমার বিশ্বাস, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান সংঘাতও ধীরে ধীরে আরও স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যাবে।”

যুদ্ধের পর থেকেই কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করে।

যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দামে ওঠানামা দেখা দিয়েছে।

টোল আদায়ের প্রশ্নে কী বললেন বেসেন্ট

সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্টকে প্রশ্ন করা হয়, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে কি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে?

জবাবে তিনি বলেন,

“আমার ধারণা, জাহাজগুলো স্বাধীনভাবেই চলাচল করতে পারবে।”

তাঁর এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো ব্যবস্থার পক্ষে নয়, যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন কোনো আর্থিক শর্ত আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নতুন ইঙ্গিত

স্কট বেসেন্টের এই মন্তব্যের আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে।

এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় আকারের সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণাও দেন।

তবে সে সময় ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।

আলোচনায় ওমানের ভূমিকা

ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আলোচনার অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও সম্পৃক্ত রয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ভালো খবর আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

জ্বালানি বাজারের নজর হরমুজে

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করবে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেলবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা আসেনি। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক আশাবাদ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ পুনরায় সচল হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স