কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি গবেষক সালমান আল-আনসারি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, সৌদি আরব যদি এই যুদ্ধে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তবে ইরান বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। কারণ, রিয়াদের ওপর ইসলামাবাদের একটি ‘পারমাণবিক সুরক্ষা কবজ’ বা ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ বিদ্যমান রয়েছে।
ন্যাটো স্টাইল প্রতিরক্ষা চুক্তি
গত বছর কাতারের দোহায় হামাস প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনার পর সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির কাঠামো অনেকটা ন্যাটোর ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর মতো:
সম্মিলিত সুরক্ষা: চুক্তির শর্তানুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।
সামরিক বাধ্যবাধকতা: যদি সৌদি আরব দীর্ঘস্থায়ী বা অস্তিত্ব সংকটের মতো হামলার শিকার হয়, তবে পাকিস্তান তার সমগ্র সামরিক শক্তি (পারমাণবিক সক্ষমতাসহ) নিয়ে সহায়তা করতে বাধ্য থাকবে।
তেহরানকে ইসলামাবাদের কড়া বার্তা
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে এই চুক্তির বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জবাবে ইরান আশ্বস্ত হতে চেয়েছে যে, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন তাদের ওপর কোনো হামলা চালানো না হয়।
জ্বালানি সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি
যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে:
রপ্তানি হ্রাস: বর্তমানে সৌদি আরব তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
কূটনৈতিক সাফল্য: সম্প্রতি ‘করাচি’ নামক একটি পাকিস্তানি তেলবাহী জাহাজ ট্র্যাকিং সিস্টেম সচল রেখেই নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে পর্দার আড়ালের আলোচনার মাধ্যমেই এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।
কেন পাকিস্তান ও সৌদি আরব এতো ঘনিষ্ঠ?
এই সম্পর্কের মূলে রয়েছে পারস্পরিক স্বার্থ। পাকিস্তান যেমন তার জ্বালানি তেলের বড় অংশের জন্য সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি সৌদি আরব তার সামরিক জনবল ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের ওপর ভরসা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি সৌদি আরবের জন্য একটি অদৃশ্য ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমীকরণ ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে এক নতুন ও ভয়ঙ্কর মাত্রা যোগ করেছে। সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির সম্পৃক্ততা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিতে পারে।