ঢাকা

জনগণের জীবিকা সুরক্ষাই স্বাধীনতার আসল চেতনা: চিফ হুইপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ হলো জনগণের রুটিরুজির অধিকার ফিরে পাওয়া। একজন রিকশাচালকের রিকশা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাঁদের ঘাম ও শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব–এর তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতার অর্থ ও জনগণের অধিকার

চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান বা আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপনের বিষয় নয়; বরং তা মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, “যে কৃষক মাঠে ফসল ফলায়, যে শ্রমিক দিনভর ঘাম ঝরায়, যে রিকশাচালক জীবিকা নির্বাহে রাস্তায় সংগ্রাম করে—তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করাই স্বাধীনতার প্রকৃত প্রতিফলন।”

দীর্ঘ সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ এখন স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের নেতৃত্ব ও সুশাসনের দাবি

চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দেশে সুশাসনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক—মানুষ অনাহারে ছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অস্থিতিশীল।

তার অভিযোগ, সে সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। যুবলীগের সদস্যদের লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র প্রাপ্তি এবং পথেঘাটে লাশ পড়ে থাকার মতো পরিস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জিয়াউর রহমানের ভূমিকার উল্লেখ

চিফ হুইপ বলেন, ওই দুঃসময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের প্রত্যাশা ও চাপে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের খালখনন কর্মসূচির ফলে তিন বছরের মধ্যে দেশের খাদ্যসংকট দূর হয় এবং বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

তার মতে, এ উদ্যোগ দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘জুলাই সনদ’ নিয়ে অবস্থান

অনুষ্ঠানে ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ সনদ নিয়ে কোনো ধরনের “অপরাজনীতি” সহ্য করা হবে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে দলটি অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দল নিয়ে সমালোচনা

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, তারা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান পরিবর্তন করছে। কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে।

তার ভাষ্য, এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

চিফ হুইপের বক্তব্যে স্বাধীনতার অর্থকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়। একই সঙ্গে সরকারের সুশাসন ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানটি স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য স্মরণ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স