যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে প্রত্যাশিত সমর্থন না দেওয়ায় “চরম হতাশ” হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই মন্তব্য এসেছে ন্যাটোর মহাসচিব Mark Rutte-এর সঙ্গে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর।
ব্রিটিশ দৈনিক The Guardian-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠক শেষে Mark Rutte সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ছিল “খুবই স্পষ্ট, খোলামেলা এবং বন্ধুসুলভ”। তবে তিনি সরাসরি বলেননি যে ট্রাম্প ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার কোনো হুমকি দিয়েছেন কি না।
মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ
বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরান ইস্যু এবং সামরিক সমর্থন প্রশ্নে ন্যাটো সদস্যদের ভূমিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা প্রত্যাশিতভাবে পাশে দাঁড়ায়নি।
এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ন্যাটোকে “কাগুজে বাঘ” বলে অভিহিত করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন সহায়তা চেয়েছিল, তখন মিত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি ও সামরিক উত্তেজনা
সম্প্রতি Strait of Hormuz ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু অধিকাংশ দেশ তাতে সাড়া দেয়নি।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক অস্থিরতা
বৈঠকের সময়টি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও Iran দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জলপথ খুলে না দিলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের কড়া অবস্থান
ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “ট্রুথ সোশ্যাল”-এ লিখেছেন, ন্যাটো যখন প্রয়োজন ছিল তখন পাশে পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতেও তাদের ওপর নির্ভর করা কঠিন হবে।
তিনি গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ টেনে আবারও ন্যাটোর সমালোচনা করেন, যা অতীতেও তিনি একাধিকবার করে আসছেন।
ন্যাটো মহাসচিবের প্রতিক্রিয়া
Mark Rutte বৈঠকের পর জানান, আলোচনা ছিল অত্যন্ত “সোজাসাপটা ও বাস্তবভিত্তিক”। তিনি ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়েও কথা বলেন।
তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।
ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ জোটের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
ন্যাটো ৩২টি দেশের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোট, যার মূল নীতি হলো কোনো সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কূটনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন সমীকরণ
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। ইরান ইস্যু, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ—সব মিলিয়ে ন্যাটোর ওপর কৌশলগত চাপ আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প–রুতে বৈঠক ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।