ঢাকা

উৎসবের আমেজে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী, আজ শুরু ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠছে আজ। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—এই তিন স্বাগতিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই নিউইয়র্ক থেকে মেক্সিকো সিটি, হিউস্টন থেকে বিভিন্ন ফ্যান জোন পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল।

এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে, যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নজির স্থাপন করেছে। আয়োজক শহরগুলোতে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়, রঙিন সাজসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক উৎসব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য পরিবেশ।

শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ

নিউইয়র্কে ইউএসটিএ বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারের ‘কুইন্স গ্রুপ স্টেজ এইচকিউ’-তে ভিড় জমিয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকরা। জাতীয় দলের জার্সি পরে অনেকে ছবি তুলছেন, কেউ আবার স্মৃতিকে বন্দী করছেন বিশ্বকাপ থিমে সাজানো ফটো জোনে।

মেক্সিকো সিটিতে ‘পাপালোতে মুসেও দেল নিনো’ এবং আশপাশের এলাকায় শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী মানুষই অংশ নিচ্ছেন ফুটবল উৎসবে। শহরের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বকাপের বিশাল প্রতীকী শিরোপা, যা ঘিরে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ছবি তোলার হিড়িক পড়েছে।

বিশ্বকাপের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু ‘এস্তাদিও আজতেকা’-এর বাইরে মেক্সিকোর সমর্থকেরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হাজির হয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও ফুটবল ভালোবাসার অনন্য সমন্বয় তুলে ধরছেন।

হিউস্টনে শিল্প ও ফুটবলের মেলবন্ধন

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরের কেন্দ্রস্থলে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেয়ালে রঙিন ম্যুরাল আঁকছেন স্থানীয় শিল্পীরা। ফুটবলকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে শিল্প-সংস্কৃতির এক ভিন্ন মাত্রা। স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনগুলোতে চলছে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ, যা পুরো শহরকে এক উৎসবমুখর রূপ দিয়েছে।

স্টেডিয়াম ও আকাশদৃশ্যের প্রস্তুতি

মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচকে কেন্দ্র করে ‘এস্তাদিও সিউদাদ দে মেক্সিকো’ স্টেডিয়ামকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আকাশ থেকে দেখা স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকার আলোকসজ্জা ও জনসমাগম ফুটবল উন্মাদনার তীব্রতা তুলে ধরছে।

স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের বাইরে সমর্থকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বৈশ্বিক মিলনমেলা

বিশ্বকাপ উপলক্ষে এই তিন দেশে তৈরি হয়েছে এক বৈশ্বিক মিলনমেলা। বিভিন্ন দেশের পতাকা, জার্সি ও সাংস্কৃতিক উপাদানে ভরে উঠেছে ফ্যান জোনগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে রঙিন ছবি ও ভিডিও, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আরও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের সূচনা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি এক সাংস্কৃতিক ও বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে বিশ্ব ফুটবলের এই বৃহৎ আসর নতুন ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উদ্বোধনী দিনের এই উৎসব জানান দিচ্ছে—চার বছর পর আবারও শুরু হয়েছে ফুটবল মহাযজ্ঞ, যেখানে আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর আনন্দ মিলেমিশে এক অনন্য বৈশ্বিক উদযাপনে রূপ নিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স