ঢাকা

সামরিক ব্যয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তীব্র রূপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা নীতিকে দেশের নিরাপত্তা চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ করেন।

John Healey-এর এই পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর উপায় নিয়ে সরকার এখন তীব্র চাপের মুখে।

দীর্ঘদিনের বাজেট দ্বন্দ্বের ফল

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এই মতবিরোধের কারণেই বহু প্রতীক্ষিত ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ এখনো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং ব্রিটিশ জলসীমায় অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকার ঋণের চাপ কমানো এবং উচ্চ করের বোঝার কারণে নতুন ব্যয় পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তায় ভুগছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের জন্য নতুন চাপ

হিলির পদত্যাগ এমন এক সময়ে এল, যখন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার নিজেই রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের অভ্যন্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন দেখা গেছে, যা প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিরক্ষা খাতে এই অচলাবস্থা সরকারের নীতি গ্রহণের সক্ষমতাকে দুর্বল করছে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

চিঠিতে গুরুতর অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে জন হিলি সরাসরি অর্থ বরাদ্দের ঘাটতির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, বর্তমান বৈশ্বিক হুমকির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রেজারি বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

হিলির ভাষায়, “আমাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা আমাদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াবে।”

প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সরকার জানিয়েছিল, আগামী ৭ জুলাই ন্যাটো সম্মেলনের আগে ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এখন এই পদত্যাগের পর সেই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতও এ বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ছে।

বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকারে পরিবর্তন, ইউরোপে রাশিয়ার তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সরকারের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত

হিলির পদত্যাগকে অনেকেই সরকারের ভেতরের বৃহত্তর অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এ অবস্থায় প্রতিরক্ষা ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি ইস্যু একসঙ্গে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স