ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ফিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফিরে তিনি রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (Criminal Investigation Department (CID), West Bengal)-এর দপ্তর ভবানী ভবনে হাজিরা দেন।
জাল স্বাক্ষর–সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে সিআইডির তলবের পর নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দপ্তরে উপস্থিত হন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হাজিরা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তার আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসভবন, পরে সিআইডি দপ্তরে
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা জাল স্বাক্ষর–সংক্রান্ত অভিযোগ ও সিআইডির তলব নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে নীরব থাকেন এবং সরাসরি গাড়িতে উঠে নিজের বাসভবনের দিকে রওনা হন।
পরবর্তীতে সেখান থেকে তিনি ভবানী ভবনে যান এবং তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দেন।
জাল স্বাক্ষর–সংক্রান্ত তদন্ত
সিআইডির অভিযোগ অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক রেজোল্যুশনে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, যে তারিখে ওই রেজোল্যুশনে তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, সেদিন তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়। সংস্থাটির দাবি, তদন্তে তাঁর বক্তব্য ও নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। আদালত জানায়, আগামী তিন সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
তবে আদালত একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যেতে পারবে এবং অভিযুক্তকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনটি পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যেগুলোর মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
রাজনৈতিক ও আইনি চাপের প্রেক্ষাপট
জাল স্বাক্ষর–সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত ঘিরে শাসক দল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।
ত্রিপুরা মামলায় নতুন সমন
এদিকে পৃথক আরেক ঘটনায় ২০২১ সালে ত্রিপুরার খোয়াই জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে সমন জারি করা হয়েছে।
এই মামলায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, দোলা সেন ও ব্রাত্য বসুর নামও রয়েছে। খোয়াই আদালতের নির্দেশে সমন ইতোমধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে পাঠানো হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখে সশরীর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
একদিকে সিআইডির তদন্ত, অন্যদিকে আদালতের একাধিক মামলার সমন—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগামী দিনে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।