দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত, অনৈক্য ও বিভেদ কমিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ বা সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কয়েকটি রাজনৈতিক দল। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বাইরে গিয়ে ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছিল দলগুলোর ইশতেহারে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। জাতীয় সংসদে তো নয়ই, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন নিয়ে কার্যত কোনো আলোচনা নেই। ফলে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিটি আপাতত কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ ধরনের কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের কথা বলেছে। আর এনসিপি বলেছে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা।
এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ‘সমন্বিত সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন’ কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিশ্রুতির পেছনে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিভাজন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভাজন, সংঘাত, সহিংসতা ও প্রতিশোধের ঘটনা দীর্ঘদিনের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এ ভূখণ্ডের মানুষের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন, গণহত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে এ অঞ্চলের কিছু মানুষও সহযোগিতা করেছিল।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের শাসনামলেও রাজনৈতিক বিরোধ ও দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে গুম, খুন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ–অভ্যুত্থানের সময়ও হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সামনে আসে। ওই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দলটির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে যান এবং অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যান।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অতীতের অপরাধের সত্য উদ্ঘাটন এবং প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে পুনঃসমঝোতার লক্ষ্যে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের ধারণাটি সামনে আসে।
অন্তর্বর্তী সরকারও বলেছিল কমিশনের কথা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল।
২০২৫ সালের ১০ মে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর দ্বিতীয় খসড়ার ওপর একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, অতীতে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সবাইকে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হলে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা জটিল হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এ ধরনের সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস কমিশনের অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে।
একই সভায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, অনন্তকাল ধরে হানাহানি করে জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের কমিশন প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্য ছিল, কমিশন গঠনের উদ্যোগটি আরও আগে, এমনকি ১৯৭২ সাল থেকেই নেওয়া হলে ভালো হতো। তবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে অপরাধীদের জাতীয় মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠার জন্যও কমিশন প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্যোগ
ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন বিশ্বজুড়ে সংঘাত-পরবর্তী সমাজে সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং জাতীয় পুনর্মিলনের একটি আলোচিত উদাহরণ। বাংলাদেশেও অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এনে পুনঃসমঝোতার পথ তৈরির ক্ষেত্রে ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আলোচনা হয়েছিল।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আলোচনার পর বাংলাদেশে কমিশন গঠনের উদ্যোগ আর এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির প্রতিশ্রুতি
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি তাদের ইশতেহারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটি বলেছে, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।
বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, জাতি গঠন শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্তা নির্মাণের বিষয়টিও জড়িত।
এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত ও বিভাজন পেছনে ফেলে জাতীয় ঐক্যের নতুন ভিত্তি তৈরির কথা বলা হলেও সরকার গঠনের ছয় মাস পরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
জামায়াত ও এনসিপির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে
বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটির ইশতেহারেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজন কমিয়ে জাতীয় ঐক্যের পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের ইশতেহারে সরাসরি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বলেছে।
অর্থাৎ সর্বশেষ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে নামের কিছুটা পার্থক্য থাকলেও মূল ধারণাটি প্রায় একই—অতীতের সংঘাত ও অপরাধের সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে পুনঃসমঝোতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
কেন এগোচ্ছে না কমিশনের উদ্যোগ
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কমিশন গঠন না হওয়ার বিষয়ে কয়েকটি যুক্তি সামনে এসেছে। তাদের বক্তব্য, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো ছয় মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। সামনে আরও সময় রয়েছে। ফলে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি।
তবে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার বিষয়টিও দলগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এখনো অতীতের অপরাধের দায় স্বীকার করেনি—এমন দাবি করে রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বলছেন, দলটি বরং হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে নিয়ে একটি সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন গঠন করা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতের অপরাধের বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে সরাসরি পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন। আবার শুধু বিচার ও শাস্তির ওপর জোর দিলে প্রতিহিংসার রাজনীতি আরও দীর্ঘ হতে পারে। এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই কমিশন গঠনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের চোখে ‘কথার কথা’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের কথা থাকলেও বাস্তবে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তাঁদের মতে, কমিশন গঠন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে কমিশনের এখতিয়ার, কোন সময়ের ঘটনা তদন্ত করা হবে, কারা এর সদস্য হবেন, অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার ও ক্ষমার সীমা কী হবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কী ধরনের প্রতিকার থাকবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কাঠামো দরকার।
আরও বড় প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে কতটা আত্মসমালোচনা করতে প্রস্তুত। কারণ সত্য ও পুনঃসমঝোতার প্রক্রিয়া শুধু একটি দলের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেটি গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।
বিচার না পুনর্মিলন—দুইয়ের ভারসাম্যই বড় প্রশ্ন
ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে সত্য উদ্ঘাটন ও সামাজিক পুনঃসমঝোতা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর সঙ্গে বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নও গভীরভাবে যুক্ত।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম, হত্যা ও নির্যাতন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাগুলো—কোন সময়সীমাকে কমিশনের আওতায় আনা হবে, সেটিই হতে পারে বড় বিতর্ক।
একটি কমিশন যদি কেবল অতীতের ঘটনা তুলে ধরে, কিন্তু অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। আবার কমিশন যদি কেবল অপরাধ শনাক্ত ও শাস্তির প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, তাহলে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনঃসমঝোতার মূল লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি, ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সহাবস্থানের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
ইশতেহারে আছে, বাস্তবে কত দূর
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে একাধিক বড় রাজনৈতিক দল ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন বা হিলিং কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও একই ধরনের কমিশনের কথা বলেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্যোগও হয়েছিল।
কিন্তু ধারাবাহিক এসব উদ্যোগের পরও এখন পর্যন্ত দেশে এ ধরনের কোনো কমিশন গঠিত হয়নি। জাতীয় সংসদ কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা নেই।
ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিভাজন, সংঘাত ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় পুনঃসমঝোতার যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, সামনে সময় আছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—সময়ের সঙ্গে যদি এ উদ্যোগও অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মতো হারিয়ে যায়, তাহলে অতীতের ক্ষত নিরাময় ও জাতীয় ঐক্যের পথ তৈরি হবে কীভাবে?
বাংলাদেশে ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই কমিশনটি হবে কি না, তা নয়; বরং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব রাজনৈতিক উদ্যোগে পরিণত করার মতো প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ও ঐকমত্য দেখাতে পারবে কি না।