ঢাকা

নতুন সংসদ আদেশ মানছে না—‘ধৃষ্টতা’ বলছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিলেও নতুন জাতীয় সংসদ তা অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-এর সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটকে বেআইনি করার যেকোনো উদ্যোগ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে এবং এতে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আলোচনা সভায় তীব্র সমালোচনা

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত কাইয়ূম। ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে জুলাই সনদ: প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

সভায় তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধে সংবিধান সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকেও সময়ের প্রধান দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

‘গণভোটের রায় মানতেই হবে’

বর্তমান সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা অগ্রাহ্য করা হলে তা হবে গণইচ্ছার অবমাননা। তাঁর ভাষায়,
“যাঁদের ভোটে আপনারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছেন, সেই একই ভোটাররা গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই রায় অগ্রাহ্য করলে জনপরিসরে সরকারের গ্রহণযোগ্যতায় ধস নামবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ‘অভ্যুত্থান’ এখনো শেষ হয়নি; বরং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে। প্রয়োজন হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সরকার পতনের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

স্বাধীনতার অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পাঁচ দশক পরও বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ১৯৭২ সালের সংবিধানের বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো দেশে একটি কেন্দ্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন জরুরি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণ–অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ ও ‘জুলাই সনদ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য বাকী বিল্লাহ, বাসদ (মার্ক্সবাদী)-এর নেতা জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সদস্যসচিব মাহবুব আলম চৌধুরী, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আব্দুল আলীম খান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার এবং গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জীসহ আরও অনেকে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক সময়ে গণভোট, সংবিধান সংস্কার এবং সংসদের ভূমিকা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একদিকে সরকারপক্ষ সংসদীয় প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী ও বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে, যদি না সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা যায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স