মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশেষায়িত সার্টিফিকেট কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি–তে। ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস’ শীর্ষক এই কোর্সের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের গবেষণা কেন্দ্র ‘এনএসইউ সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ’। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা।
কোর্সটি বাস্তবায়িত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর–এর যৌথ অর্থায়ন ও সহযোগিতায়। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে পরিচালিত একটি আঞ্চলিক প্রকল্পের অংশ, যার লক্ষ্য ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো সম্পর্কে জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটানো।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দক্ষতা উন্নয়ন
উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে বৈশ্বিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইইউ প্রতিনিধিদলের ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড মাইগ্রেশন বিভাগের অ্যাটাশে পিনার এলম্যান। এছাড়া বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান শাখার অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচারবিষয়ক কর্মকর্তা মার্কাস ভিনিসিউস পেস এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসনিম বিনতে করিম।
সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ।
শিক্ষাবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান
স্বাগত বক্তব্যে আইন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ কোর্সের লক্ষ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষাবিদদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে আইনগুলো আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী হয়।
বক্তব্যে পিনার এলম্যান মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে এবং তা প্রতিরোধে শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
অন্যদিকে মার্কাস ভিনিসিউস পেস তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাসনিম বিনতে করিম দক্ষিণ এশিয়ায় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সনদ বিতরণ ও সমাপনী
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই ধরনের বিনিয়োগ ও উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথি বক্তাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
প্রাসঙ্গিকতা ও তাৎপর্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বর্তমান বিশ্বে একটি জটিল ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ। এ ধরনের কোর্স শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানই নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। ফলে ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচারব্যবস্থা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।