দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার অসংগতি রয়েছে কি না—এই প্রশ্ন তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি সত্যিই জ্বালানির কোনো সংকট না থাকে, তাহলে দীর্ঘ সারি, মূল্যবৃদ্ধি এবং অফিস সময় পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত কেন নিতে হচ্ছে।
রোববার (২০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ নম্বর ধারায় জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় তিনি এ বক্তব্য দেন।
সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—পেট্রোল পাম্পে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি, মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা এবং ভোগান্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “মন্ত্রীরা সংসদে বলেন কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি পাচ্ছে না।”
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, জ্বালানি সংকট না থাকলে কেন দাম বাড়াতে হচ্ছে এবং কেন সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
সরকারের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে অফিস সময় কমানো ও সন্ধ্যার পর মার্কেট বন্ধের নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, এসব সিদ্ধান্ত পরোক্ষভাবে জ্বালানি পরিস্থিতির বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “দেশে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলবে—এই তথ্য সংসদের সামনে পরিষ্কার করা উচিত।”
ট্রেজারি বেঞ্চে হট্টগোল ও বিরোধী প্রতিক্রিয়া
বক্তব্য চলাকালে সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য আপত্তি জানান এবং কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরোধী পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সংসদে বক্তব্য চলাকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে।
এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ হলো দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানে একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দিচ্ছেন—এ সময় তাকে বাধাগ্রস্ত করা বা অশোভন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সদস্যের আচরণকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে নিন্দা জানান এবং সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান।
বিদ্যুৎ ও দুর্নীতি নিয়েও অভিযোগ
আলোচনায় গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে, যা জনজীবন ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তিনি সেচব্যবস্থা ও পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন।
এ ছাড়া সংসদে বিভিন্ন সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। একাধিক সংসদ সদস্য দাবি করেন, এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
সংসদের এ অধিবেশনে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের অসংগতি তুলে ধরলেও সরকারপক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।