জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যুবদল কর্মী হত্যা এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই আদেশ এল।
জামিন প্রক্রিয়ার ঘটনাক্রম
হাইকোর্টের আদেশ: গত ৮ মার্চ উচ্চ আদালত যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির চার মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় তিনি জামিন পান।
রাষ্ট্রপক্ষের চ্যালেঞ্জ: রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে চেম্বার আদালত বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। মঙ্গলবার বিস্তারিত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো খারিজ করে দেন।
আইনি জটিলতা ও বর্তমান অবস্থা
খায়রুল হকের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে উক্ত পাঁচ মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তবে আইনি তথ্যানুযায়ী:
নতুন মামলা: গত ৩০ মার্চ যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি পৃথক হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কারামুক্তি: আইনজীবীদের মতে, যদি অন্য কোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট না থাকে, তবেই তিনি মুক্তি পাবেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের ধরণ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বেশ গুরুতর ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর:
রায় জালিয়াতি: ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল সংক্রান্ত রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
হত্যা মামলা: জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে অন্যতম আসামী করা হয়েছে।
দুদকের মামলা: ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন বহির্ভূতভাবে সরকারি প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০-২০১১ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে।


