ঢাকা

সমাবর্তনে বিশেষ সম্মাননা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব (লিমন-বৃষ্টি)

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার (৫ মে) মিয়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক পত্রের মাধ্যমে এই সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মরণোত্তর ডিগ্রি গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সে অনুযায়ী, ৯ মের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শোকাতুর পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে কনস্যুলেট কর্মকর্তা এই সম্মাননা সনদ গ্রহণ করবেন, যা বিদেশে বাংলাদেশি মেধার প্রতি একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃষ্টির জানাজা ও মরদেহ ফেরার ক্ষণগণনা
নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুর ২টায় ফ্লোরিডার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৭ মে তাঁর মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুবাই হয়ে ৯ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির নিথর দেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শোকবিহ্বল স্বজনরা বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

নৃশংসতা ও আইনি প্রক্রিয়ার আপডেট
স্মরণযোগ্য যে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে লিমন ও বৃষ্টি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর ফ্ল্যাটে রক্তের চিহ্ন পাওয়ার পর ঘটনার নৃশংসতা সামনে আসে। হিশামকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসিকিউটররা এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত শীতল ও পরিকল্পিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ধৃত হিশামের বিরুদ্ধে বর্তমানে 'ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার' বা প্রথম মাত্রার খুনের দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

হারানো দুই নক্ষত্র
নিহত জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। বিদেশের মাটিতে এই দুই সম্ভাবনাময় গবেষকের অকাল মৃত্যু কেবল দুই পরিবারের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মরণোত্তর ডিগ্রি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বকে অমর করে রাখবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স