রাজধানীর শাপলা চত্বর-এ ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনায় নিহতদের ‘সূর্যসন্তান’ আখ্যা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ওই দিনের ঘটনাকে ঘিরে যে চেতনা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তার প্রভাব থাকবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর-এর নলিনীকান্ত অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শাপলার শহীদচিত্র: অদেখা সত্যের ফ্রেম’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস।
‘শাপলার চেতনায় আগামীর রাজনীতি’
মামুনুল হক বলেন, “২০১৩ সালে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তারা এই বাংলার সূর্যসন্তান। তাদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে সত্য ও ন্যায়ের পথে উদ্বুদ্ধ করবে।”
তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ধারায় ‘শাপলার চেতনা’ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখবে।
‘পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ’—অভিযোগ
৫ মে’র ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে তা স্পষ্ট ছিল।
“কীভাবে অভিযান পরিচালিত হবে, কোথা থেকে আক্রমণ হবে—সবকিছু পরিকল্পনা করেই তারা রণসাজে প্রস্তুত ছিল,”—এমন দাবি করেন তিনি।
তবে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত রয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলমান।
ট্রাইব্যুনালে মামলা ও বিচারের দাবি
হেফাজতে ইসলাম-এর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান মামুনুল হক। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে ঢাকায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি এ ঘটনার জন্য তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া
প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি বলেন, “৫ মে’র ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত বড় এবং এর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “সত্য সামনে আসা এবং বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
আয়োজন ও উদ্দেশ্য
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ। উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক মঞ্জুর আহমেদ, রাশেদ প্রধান, মো. কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
প্রদর্শনীতে ২০১৩ সালের ঘটনার আলোকচিত্র, নিহত ও আহতদের তথ্য, দেয়াল ফেস্টুন এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য হলো ঘটনাটিকে গবেষণাভিত্তিক আলোচনায় নিয়ে আসা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা।
প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়। বিভিন্ন পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে আসছে, ফলে এটি এখনও রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই পারে এ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে।