ঢাকা

জার্মানিতে বাংলা শেখার ক্লাস, Stuttgart-এ প্রবাসীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সুদূর ইউরোপের দেশ জার্মানি-র স্টুটগার্ট শহরে বসবাসরত কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা উদ্যোগ—বাংলা ভাষা শেখার অনলাইন স্কুল। ২০২১ সালে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল’ আজ প্রবাসে বাংলা ভাষা চর্চার এক উল্লেখযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, সময়ের অভাব এবং সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ—সবকিছুই ছিল এই উদ্যোগের পথে বাধা। তবে উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতা ও দৃঢ় সংকল্প ধীরে ধীরে সেই বাধা অতিক্রম করে। বর্তমানে জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে এই স্কুলে অনলাইনে বাংলা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছে।

স্কুলটির পাঠক্রম পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সিলেবাস অনুযায়ী। ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভাষা শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কাঠামোর মধ্য দিয়েই বাংলা পড়া, লেখা ও বলার দক্ষতা অর্জন করছে।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রবাসে বসবাস করলেও মাতৃভাষার প্রতি তাঁদের আবেগ ও দায়বদ্ধতা অটুট। তাঁদের ভাষায়, “আমরা যেখানেই থাকি না কেন, বাংলা ভাষা আমাদের পরিচয়ের মূল ভিত্তি। এই ভাষার প্রতি আমাদের দায় রয়েছে—যেমন দায় রয়েছে আমাদের মা ও জন্মভূমির প্রতি।”

তাঁরা আরও বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা ভাষা চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবারে সীমিত ব্যবহারের কারণে ভাষাটির সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। সেই বাস্তবতা থেকেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিশুদের জন্য এই অনলাইন শিক্ষা উদ্যোগ চালু করা হয়েছে, যাতে তারা মাতৃভাষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে।

এই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয় ২০২৬ সালের ২ মে। ওইদিন স্টুটগার্ট শহরে অনুষ্ঠিত হয় ‘কচি–কাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল’-এর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এতে ব্যাচ-১ ও ব্যাচ-২–এর মোট ১০ জন শিক্ষার্থী ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরব্যাপী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে।

জার্মান প্রবাসে বেড়ে ওঠা এই শিশুদের বাংলা ভাষায় পড়া, লেখা ও কথা বলার দক্ষতা অর্জন নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসী বাঙালি সমাজেও এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে মাতৃভাষার ভূমিকা অপরিসীম। সেই জায়গা থেকে স্টুটগার্টে গড়ে ওঠা এই বাংলা শেখার উদ্যোগ শুধু একটি স্কুল নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শিকড়ের সংযোগ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই উদ্যোক্তা ও অভিভাবকদের। তাঁদের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর এই শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলা ভাষাভাষী শিশুদের জন্য মাতৃভাষা শেখা সহজ ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স