ঢাকা

দুর্ঘটনায় আহত হলে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা, আবেদন পদ্ধতি প্রকাশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। মে-জুন প্রান্তিকের এই চিকিৎসা অনুদানের জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট জানিয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেওয়া হবে। এই সহায়তা দেওয়া হবে ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুযায়ী।

আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে।

আবেদন লিংক:
ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

কারা আবেদন করতে পারবেন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে।

এ ছাড়া অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আবেদনকারীকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে প্রমাণ দেখাতে হবে। সে ক্ষেত্রে—

আগের শ্রেণিতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে
অথবা
এসএসসি/এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ ৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫০ থাকতে হবে
স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ ৪-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে

এসব তথ্যের প্রমাণ হিসেবে ট্রান্সক্রিপ্ট বা ফলাফলের কপি আপলোড করতে হবে।

দরিদ্রতার প্রমাণ ও আয়সংক্রান্ত শর্ত

সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের সন্তান আবেদন করলে অফিসপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

অন্যান্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক “বাবা-মা বা অভিভাবক দরিদ্র” মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর পরিবারে বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে।

চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র বাধ্যতামূলক

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে সরকারি হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নিচের যেকোনো কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন গ্রহণযোগ্য হবে—

জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

চিকিৎসা সনদের কপি অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অনলাইন আবেদনপত্র
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন
জন্মনিবন্ধনের কপি
মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
শিক্ষার্থীর ছবি
স্বাক্ষর
ফলাফলের কপি বা ট্রান্সক্রিপ্ট
ব্যাংক হিসাবের তথ্য
চিকিৎসা সনদ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো নথি অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

ব্যাংক হিসাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

অনুদানের টাকা সরাসরি শিক্ষার্থী বা তাঁর মা-বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। তাই আবেদন করার সময় সচল ব্যাংক হিসাব নম্বর এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

প্রমাণ হিসেবে চেকের পাতার কপি বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপলোড বাধ্যতামূলক।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে, যদি মা-বাবা জীবিত না থাকেন বা শিক্ষার্থী অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব গ্রহণ করা হবে।

ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ ব্যাংক তথ্য দিলে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না এবং পরে পুনরায় অর্থ পাঠানোর সুযোগ নাও থাকতে পারে।

হার্ডকপি জমা দিতে হবে না

কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় আবেদনপত্রের কোনো হার্ডকপি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

আবেদন যেভাবে করবেন

আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ৩০ জুন ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বলছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স