ঢাকা

দুই বন্ধুর সৃজনশীলতায় লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র, গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
তথ্যসূত্র: ইউপিআই

লেগোর ছোট ছোট ১১ হাজার ৬৯৫টি টুকরা। একটির পর একটি জুড়ে সেগুলো দিয়েই তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র। কাজটি শেষ করতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ড। এই ব্যতিক্রমী কীর্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বন্ধু আথেনা লিওং ও সেভি সুইফট গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। তাঁদের নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

লেগো দিয়ে দ্রুততম সময়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই কাজ শেষ করেন তাঁরা। শুধু দ্রুত কাজ করাই নয়, এত বিপুলসংখ্যক ছোট প্লাস্টিকের টুকরা সঠিকভাবে সাজিয়ে একটি বড় মানচিত্র তৈরি করাই ছিল তাঁদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।

পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে মানচিত্র তৈরির চ্যালেঞ্জ

গত ১২ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ডে ‘ব্রিক বাই ব্রিক টয়েজ’ নামের একটি খেলনার দোকানে এ রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জে অংশ নেন আথেনা ও সেভি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর মানচিত্রটি তৈরি করতে তাঁদের সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১১ হাজার ৬৯৫টি লেগোর টুকরা ব্যবহার করে মানচিত্রটি সম্পূর্ণ করতে হতো।

তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার জন্য তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়নি। ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডেই পুরো কাজ শেষ করেন দুই বন্ধু। অর্থাৎ নির্ধারিত সর্বোচ্চ সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট আগেই তাঁদের চ্যালেঞ্জ শেষ হয়ে যায়।

এক মাসের প্রস্তুতি

এ ধরনের রেকর্ড গড়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন আথেনা ও সেভি। চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার প্রায় এক মাস আগে থেকেই তাঁরা লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির অনুশীলন শুরু করেন।

হাজার হাজার ছোট ব্লক নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে একটি বড় ও বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করতে শুধু লেগোর প্রতি আগ্রহ থাকলেই হয় না; প্রয়োজন পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ ভাগ করে নেওয়ার দক্ষতাও। তাই মূল চ্যালেঞ্জের আগে বারবার অনুশীলন করে নিজেদের কাজের গতি ও সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।

লেগো থেকেই বন্ধুত্বের মিল

আথেনার ছোটবেলা থেকেই লেগোর প্রতি আগ্রহ ছিল। লেগোর বিভিন্ন টুকরা জুড়ে নিজের কল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে ছোটবেলা থেকেই আকৃষ্ট করত।

সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে লেগোর প্রতি একই ধরনের আগ্রহের মিল খুঁজে পান তাঁরা। একপর্যায়ে এই শখই তাঁদের যৌথভাবে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে আথেনা বলেন, ছোটবেলায় লেগো তাঁকে নিজের কল্পনাশক্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিত। নিজের চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো দক্ষতা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ তখন তাঁর ছিল না। সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর লেগোর প্রতি তাঁদের পারস্পরিক আগ্রহসহ আরও অনেক বিষয়ে মিল খুঁজে পান তিনি।

রেকর্ড গড়ার ভাবনা আথেনার

লেগো দিয়ে দ্রুততম সময়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির রেকর্ড গড়ার ধারণাটিও প্রথম আথেনার মাথায় আসে। এরপর সেভিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা পরিকল্পনা শুরু করেন।

চ্যালেঞ্জটি ছিল একই সঙ্গে সৃজনশীল ও সময়নির্ভর। পৃথিবীর মানচিত্রের আকার ঠিক রাখা, বিভিন্ন অংশের অবস্থান নির্ধারণ এবং হাজার হাজার লেগোর টুকরা দ্রুত সাজানোর কাজ করতে হয়েছে তাঁদের।

একটি ভুল হলে নির্দিষ্ট অংশ আবার খুলে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারত। তাই প্রস্তুতির সময় তাঁরা শুধু মানচিত্রের কাঠামো তৈরির অনুশীলনই করেননি, বরং কাজের গতি ও দুজনের মধ্যে সমন্বয়ও গুরুত্ব দিয়ে চর্চা করেছেন।

আগের একক রেকর্ড এখনো বহাল

আথেনা ও সেভি দলীয়ভাবে দ্রুততম সময়ে লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির রেকর্ড গড়লেও একই ধরনের একক রেকর্ডটি এখনো অন্য একজনের দখলে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি ফারকাশ ২০২৩ সালে একাই লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। তাঁর সময় ছিল ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ড।

দুই বন্ধুর দলীয় সময় ক্ল্যারি ফারকাশের সময়ের চেয়ে অনেক কম হলেও তাঁদের রেকর্ডটি একক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়নি। কারণ ক্ল্যারি একাই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন, আর আথেনা ও সেভি রেকর্ডটি গড়েছেন যৌথভাবে।

ফলে লেগোর হাজার হাজার টুকরা দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির ক্ষেত্রে দ্রুততম দলীয় কীর্তি এখন আথেনা লিওং ও সেভি সুইফটের নামে। আর এককভাবে দ্রুততম সময়ে একই কাজ করার রেকর্ডটি এখনো ক্ল্যারি ফারকাশের দখলেই রয়েছে।

লেগোর মতো জনপ্রিয় খেলনাকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর এই কীর্তি দেখিয়ে দিল, শৈশবের একটি সাধারণ শখও পরিকল্পনা, অনুশীলন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ডের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স