সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশ সফরের সময় হোটেল খরচের সীমা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চায়, নির্ধারিত সীমার বদলে বাস্তব খরচ অনুযায়ী হোটেল ভাড়া পরিশোধ করা হোক। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে হোটেল ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে নির্ধারিত ভাতায় উন্নত দেশগুলোর বড় শহরে মানসম্মত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে কূটনৈতিক প্রটোকল বজায় রাখতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিধিদের।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ-১ দেশের সফরে একজন মন্ত্রী দৈনিক ৪২০ মার্কিন ডলার এবং প্রতিমন্ত্রী ৩১২ ডলার পর্যন্ত হোটেল ভাড়া পান। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, কানাডা, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও ব্যয়বহুল দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্প্রতি অর্থসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম উল্লেখ করেন, অনেক সময় নির্ধারিত সীমার মধ্যে উপযুক্ত হোটেল পাওয়া সম্ভব হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি লন্ডন সফরের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যেখানে একটি সাধারণ পাঁচতারকা হোটেলের কক্ষ ভাড়া দৈনিক ৮৫০ ডলার পর্যন্ত গিয়েছিল। পরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের জন্য আলাদা অনুমোদন নিতে হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী মন্ত্রীদের জন্য নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কূটনৈতিক প্রটোকল বিবেচনায় আবাসনের ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা প্রয়োজন। অনেক দেশেই মন্ত্রীদের হোটেল ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রকৃত খরচ যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং ব্যয় সংকোচনের বাস্তবতায় এমন প্রস্তাব জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন কর্মকর্তারা।
এরই মধ্যে সরকার ব্যয় কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিজনেস ক্লাসের পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় কমাতে জ্বালানি ব্যবহার, প্রশিক্ষণ ও আপ্যায়ন খাতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশ সফরের ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে তারা নন। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।