জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবে। তবে ফরম পূরণের পর নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ সেপ্টেম্বর। এ বছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে মোট ৬০০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে পরীক্ষার ফি ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ২০০ টাকা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফরম পূরণ, ফি জমা ও পরীক্ষার্থী নির্বাচনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানানো হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর শিক্ষার্থীদের তথ্যসংবলিত সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) ৩১ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা থেকেই নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে হবে।
৩১ আগস্ট প্রকাশ হবে সম্ভাব্য তালিকা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে OEMS/eFF অপশনে গিয়ে EIIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে পারবে।
এরপর Probable List-এ গিয়ে তালিকাটি প্রিন্ট করতে হবে। প্রিন্ট করা হার্ডকপিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসারে যোগ্য শিক্ষার্থীদের লাল কালি দিয়ে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অন্য প্রতিষ্ঠান বা অন্য বোর্ড থেকে আগত শিক্ষার্থীদের তথ্যও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণির ২০২৪ সেশনের বোর্ড, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর এন্ট্রি করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর তথ্য নিজ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রদর্শিত হবে।
এরপর হার্ডকপিতে টিক চিহ্ন দেওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য কম্পিউটারে প্রদর্শিত Probable List-এর সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করতে হবে।
Temporary List যাচাইয়ের সুযোগ
অনলাইনে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার পর Temporary List প্রিন্ট করতে হবে। শিক্ষার্থীদের তথ্য ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে Select বা Unselect করার সুযোগ থাকবে।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর Pay Slip Print বাটনে ক্লিক করে Pay Slip প্রিন্ট করতে হবে। এরপর ওই Pay Slip-এ উল্লেখিত পরিমাণ টাকা নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের যে শাখায় সোনালী সেবা চালু আছে, সেখানে জমা দিতে হবে।
তবে Pay Slip প্রিন্ট করার পর শিক্ষার্থীদের নতুন করে Select বা Unselect করা যাবে না। ফলে Pay Slip প্রিন্ট করার আগে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে শেষ করতে হবে।
টাকা জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Final Submit
সোনালী ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইন সিস্টেমে Final Candidate List Print এবং Final Submit বাটন সক্রিয় হবে।
এরপর Final Candidate List প্রিন্ট করে পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর নিতে হবে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও স্বাক্ষর করতে হবে। সব তথ্য চূড়ান্তভাবে যাচাই করার পর Final Submit বাটনে ক্লিক করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বোর্ড বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, Final Submit সম্পন্ন না হলে ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না। এমনকি Final Submit না করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রও দেওয়া হবে না।
পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসংবলিত Final Candidate List-এর প্রিন্ট কপির একটি কপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে।
ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভার্সনেই দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এ জন্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখ করে এক কপি তালিকা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে হাতে হাতে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
বোর্ড জানিয়েছে, এ কারণে কোনো শিক্ষার্থীর অসুবিধা হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নিতে হবে। তাই ইংরেজি ভার্সনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে জমা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীরাও দিতে পারবে পরীক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা অনুসরণ করে ফরম পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেও শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত নিয়মে পরীক্ষার জন্য আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।
পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা, মোট নম্বর ৪০০
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ মোট পাঁচটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো হলো—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়।
সব মিলিয়ে পরীক্ষার মোট নম্বর ৪০০। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিন বিষয়ে প্রতিটির পূর্ণমান ১০০ করে। অন্যদিকে বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে প্রতিটির পূর্ণমান ৫০ করে।
অর্থাৎ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন হবে—
বাংলা — ১০০
ইংরেজি — ১০০
গণিত — ১০০
বিজ্ঞান — ৫০
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় — ৫০
মোট — ৪০০ নম্বর।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণের নির্দেশ
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা এবং বোর্ড থেকে প্রকাশিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত নিয়মাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণের কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
বিশেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষার্থী নির্বাচন, তথ্য যাচাই, ফি জমা, Final Candidate List প্রিন্ট এবং Final Submit—প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফরম পূরণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কোনো ধাপ অসম্পূর্ণ থাকলে শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে Final Submit না করলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না—এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।
এ ছাড়া ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের তালিকা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেওয়ার বিষয়টিও আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সামনে রেখে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল দায়িত্ব হলো সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশের পর নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণের সব ধাপ শেষ করা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।