ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এক বিচারকের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে ভুয়া হলফনামা তৈরির অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় সিএমএম আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মো. নয়ন, মোসা. রিমা এবং আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম (তরু)সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল জানিয়েছেন, মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামকে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশে মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামে এক দম্পতির বিয়ের হলফনামা আদালতের সংরক্ষিত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, হলফনামাটি জাল।
তদন্তে জানা যায়, হলফনামায় উল্লিখিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ৩০ নম্বর স্মারকে প্রকৃতপক্ষে মো. জাফরুল ইসলাম নামে অন্য এক ব্যক্তির হলফনামা নিবন্ধিত রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল নকল করে ভুয়া হলফনামা তৈরি করেন। পরে ওই জাল নথি ব্যবহার করে বরগুনার বামনা আমলি আদালতে একটি সিআর (নালিশি) মামলা করার চেষ্টা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আদালতের নাম, বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
বাদী মো. খালিদ হোসেন জানান, আদালতের যাচাই-বাছাইয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে অভিযুক্তরা বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে হলফনামা তৈরি করেছেন। আদালতের নির্দেশেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।