ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটি নিয়ে বড় তদন্ত, আতঙ্কে অনেকে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ (F-1) ভিসায় অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল পরিচিত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। তদন্তে প্রায় ১০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিয়োগদাতার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ভুয়া চাকরি এবং জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে বৈধভাবে কাজের সুযোগ পাওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

ওপিটি কর্মসূচি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে এফ-১ ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁদের শিক্ষাবিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত চাকরিতে ১২ মাস পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। আর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের বর্ধিত সুবিধাও পেয়ে থাকেন। ফলে এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তবে সাম্প্রতিক তদন্তে এই ব্যবস্থার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। আইসিই কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান কাগজে–কলমে চাকরির সুযোগ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপিটি স্ট্যাটাস বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যদিও বাস্তবে সেখানে কোনো কার্যক্রম ছিল না। তদন্তকারীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে খালি ভবন, তালাবদ্ধ অফিস কিংবা একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছেন।

আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লিওনস ওপিটি কর্মসূচিকে ‘জালিয়াতির কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বৈধ চাকরির সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে পুরো ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করেছে। তাঁর ভাষ্য, এতে শুধু অভিবাসনব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং প্রকৃত শিক্ষার্থী ও বৈধ নিয়োগদাতারাও চাপে পড়েছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। কর্মকর্তারা জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাত্র তিনজন কর্মীর বাস্তব উপস্থিতি থাকলেও নথিপত্রে প্রায় ৫০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত পাওয়া গেছে। আবার প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রতিনিধির বদলে ভারতের কিছু যোগাযোগকারীর কাছে প্রশ্ন পাঠানো হচ্ছিল। এতে সন্দেহ আরও জোরালো হয় যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিতভাবে ভুয়া চাকরির নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই তদন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিখাতসহ বিভিন্ন শিল্পে চাকরি কমে যাওয়া, ব্যাপক ছাঁটাই এবং ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এখন শুধু চাকরি পাওয়াই নয়, বরং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান বৈধ কি না, সেটিও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপিটি কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে এবং অনেকের জন্য এটি এইচ-১বি কর্মভিসার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক তদন্তের ফলে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচিতে আরও কঠোর নজরদারি, অতিরিক্ত নথিপত্র যাচাই এবং নিয়োগদাতাদের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশিসহ বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত বিস্তৃত হলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরাও প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত যাচাই কিংবা ভিসাসংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওপিটি সুবিধা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এখন থেকে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের অফিস, নিবন্ধন, কর–সংক্রান্ত নথি এবং প্রকৃত কার্যক্রম যাচাই ছাড়া কোনো চাকরির অফার গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স