ঢাকা

জামায়াত ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ, রিজভীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক জোরালো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া বক্তব্যকে ‘অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে রিজভী যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে জনমনে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি।

‘ইয়ানত চাঁদাবাজি নয়, এটি পবিত্র আমানত’

বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ অর্থ সংগ্রহ পদ্ধতি ‘ইয়ানত’ নিয়ে রিজভীর মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে সংগঠনের ফান্ডে মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন। এটি কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

তার ভাষায়, “ইয়ানত কোনো চাঁদাবাজি নয়, এটি পবিত্র আমানত। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং একটি কল্যাণকামী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কর্মীদের স্বেচ্ছা আত্মত্যাগ।”

তিনি আরও দাবি করেন, রিজভী এই সাংগঠনিক ব্যবস্থাকে ‘হাদিয়াবাজি’ বা ‘ইয়ানতবাজি’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি।

‘জোরপূর্বক চাঁদাবাজির রাজনীতি জামায়াতের নয়’

বিএনপির বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে কঠোর অভিযোগ তুলে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বা জোর করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতো জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করার কোনো ইতিহাস জামায়াতের নেই।”

তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত—তা দেশের জনগণ ভালো করেই জানে।

‘দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার দাবি’

জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনের কোনো স্তরের কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তার ভাষায়, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে পুরো সংগঠনকে দায়ী করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও জনসমর্থন প্রসঙ্গ

বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের দাবি করেন, দেশের জনগণ ধর্মভীরু এবং জামায়াতে ইসলামীর সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে সমর্থন করে আসছে।

তার মতে, “জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করতেই বিএনপি নেতা এই ধরনের মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।

বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে অ্যাডভোকেট জুবায়ের দেশবাসী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এ ধরনের ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হন।

একই সঙ্গে তিনি রুহুল কবির রিজভীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে বিবৃতি ও পাল্টা বিবৃতির মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স