২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগে এক শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি উত্তরপত্র গ্রহণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত সময়ে সেগুলো মূল্যায়নের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১ জুন ২০২৬) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন মো. আ. রশিদ মিয়া। তিনি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা-এর দৌলতপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এসএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্র (বিষয় কোড-১০২)-এর পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পরীক্ষক কোড ছিল ২৪৬০।
শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন পরীক্ষকের জন্য নির্ধারিত উত্তরপত্রের সংখ্যা ৩০০ হলেও তিনি অনৈতিকভাবে এবং তথ্য গোপন করে মোট ৭০০টি উত্তরপত্র গ্রহণ করেন। পরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এসব খাতা মূল্যায়ন করে প্রধান পরীক্ষকের কাছে জমা দেন।
বোর্ডের মতে, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন পরীক্ষকের ওপর অতিরিক্ত সংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব থাকলে মূল্যায়নের মান ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত সীমার বাইরে উত্তরপত্র গ্রহণকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বোর্ডের বিধি-বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁকে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো পরীক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদদের মতে, উত্তরপত্র মূল্যায়ন পরীক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই নির্ধারিত নীতিমালা মেনে খাতা বণ্টন ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে পরীক্ষার ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা এবং মূল্যায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডের দ্রুত পদক্ষেপ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।