ঢাকা

লীগ ইস্যুতে চলমান অবস্থার নেপথ্যে দুই দলের ইনসিকিউরিটি: মাহফুজ আলম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ প্রশ্নে চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ‘নিরাপত্তাহীনতা’ কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তাঁর মতে, এই অনিশ্চয়তা ও ভয় থেকেই বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অনেক অংশ তৈরি হচ্ছে।

সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে যে বিতর্ক ও অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা মূলত দেশের দুই বড় দলের ভেতরের ইনসিকিউরিটির বহিঃপ্রকাশ। তিনি ইতিহাস টেনে উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্মৃতি একদিকে বিএনপিকে তাড়িত করছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে রয়েছে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও অতীত রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়।

তার ভাষায়, “কৌন বনেগা লীগের বাপ?”—এই মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নই বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত ধারণা কাজ করছে। তাঁর মতে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাবে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা আড়ালে চলে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রজন্ম সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক জোট ও সমঝোতার কারণে তাদের অর্জন যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তরুণদের উদ্দেশে সমালোচনামূলক মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, অনেকেই নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক বিভাজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর ভাষায়, “তারা নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত।”

একই সঙ্গে তিনি তরুণ রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ব্যক্তি, দল বা আদর্শভিত্তিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি লেখেন, তরুণদের নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করতে হবে এবং কেবল প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান থেকে বের হয়ে এসে কাঠামোগত শক্তি অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তাঁর মতে, অতীতের মতো এবারও বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলো তরুণদের ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

পোস্টে মাহফুজ আলম আরও উল্লেখ করেন, বড় রাজনৈতিক শক্তির ‘উসকানি ও আশকারা’র কারণে তরুণদের শক্তি অনেক সময় ক্ষয় হয়ে গেছে। তাঁর মতে, ১৯৭০ ও ১৯৯০-এর দশকেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।

তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতের লড়াই মূলত তাদেরই, এবং আগের প্রজন্ম তাদের সুরক্ষা দিতে পারবে না। তাই কৌশলগতভাবে সংগঠিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

পোস্টের শেষ অংশে তিনি ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সময় ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা দেখানো হয়েছিল, এখন সেই সাহসকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ দিতে হবে। তাঁর মতে, ফ্যাসিবাদ কোনোভাবেই আর ফিরে আসতে দেওয়া উচিত নয়।

মাহফুজ আলমের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ–বিএনপি–জামায়াত রাজনৈতিক সমীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ নানা মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স