কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে আদালত দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সাবেক সৈনিক শাহীন আলম। ঘটনার সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে এবং শাহীন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুজনই বর্তমানে সেনাবাহিনীর চাকরিতে নেই।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি সন্দেহভাজন এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন। পাশাপাশি তনু হত্যাকাণ্ড বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে কোনো তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য থাকলে তা সরবরাহের অনুরোধও জানানো হয়।
এদিকে মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ডিএনএ বিশ্লেষণে চারজনের নমুনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত এপ্রিল মাসে তাঁকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি নির্জন স্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি আলোচনায় রয়েছে।