ঢাকা

নির্বাচনী কাজে হতাহত ও অসুস্থদের জন্য আর্থিক সহায়তা নীতিমালা জারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


নির্বাচন ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দুর্ঘটনা, হামলা কিংবা অসুস্থতার শিকার হলে তাদের বা তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় সন্ত্রাসী হামলা বা দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে তার পরিবার সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবে। গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারালে ৪ লাখ টাকা এবং সাময়িকভাবে অক্ষম হলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। সাধারণ আহতদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা সহায়তার সুযোগ রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে স্থায়ী অক্ষমতা দেখা দিলে ৩ লাখ টাকা এবং সাময়িক অসুস্থতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন। সাধারণ চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নীতিমালার আওতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্বামী বা স্ত্রী না থাকলে সন্তান, এরপর মা-বাবা কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভাই-বোন আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ঘটনার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।

আবেদন যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে এবং কমিশনের অনুমোদনের পর আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তাদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স