ঢাকা

এমআইএসটির গ্র্যাজুয়েশন ডিনারে শিক্ষামন্ত্রী, ‘দেশ এগিয়ে নিতে শিক্ষাই প্রধান চালিকাশক্তি’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (Military Institute of Science and Technology (MIST)) শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্র্যাজুয়েশন ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা খাতকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থবছরে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়গুলোর একটি এবং ধাপে ধাপে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অপরিহার্য।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “শিক্ষা খাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে। আমাদের দেশ এত বিশাল সম্পদের দেশ, এত সুন্দর দেশ। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? একটি ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে আছি, সেটি শিক্ষা খাত। শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে এমআইএসটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক অতিথি, গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। গ্র্যাজুয়েশন ডিনারকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেশাগত আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার মানসিকতা আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি এমআইএসটি থেকে উত্তীর্ণ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এমন আয়োজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স