ঢাকা

ট্রাম্পের দাবি: ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র প্রধানকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভেনেজুয়েলায় গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র (টিডিএ) প্রধানকে প্রাণঘাতী হামলায় হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নির্দেশেই মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সংগঠনটির প্রধান নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে।

ট্রাম্পের দাবি: “সফল প্রাণঘাতী হামলা”

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমার নির্দেশেই মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড দ্রুত ও প্রাণঘাতী সামরিক হামলা চালিয়ে সফলভাবে (চক্রটির প্রধান) নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

তবে এই হামলা কোথায় চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো স্থান উল্লেখ করেননি।

‘আর কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই’—ট্রাম্প

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের ফলে ত্রেন দে আরাগুয়ার সদস্যদের জন্য ভেনেজুয়েলা বা অন্য কোনো স্থানে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।

তার পোস্টের সঙ্গে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়। ভিডিওটিতে ওপর থেকে ধারণ করা একটি সবুজে ঘেরা ভবন দেখা যায়, যার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি বা সরাসরি সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র হিসেবে পরিচিত টিডিএ

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ত্রেন দে আরাগুয়াকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি ভেনেজুয়েলায় গড়ে উঠলেও বর্তমানে কলম্বিয়া, পেরু এবং চিলিসহ বিভিন্ন লাতিন আমেরিকান দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে বলে জানা যায়।

চক্রটি মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করে আসছে।

নিনো গেরেরোর পরিচয় ও অভিযোগ

নিনো গেরেরোর প্রকৃত নাম হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস। গত ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার ও অস্ত্র–সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি ত্রেন দে আরাগুয়ার আন্তর্জাতিক বিস্তারে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সংগঠনটিকে একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাং থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কে রূপান্তর করেছেন।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ও পুরস্কার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এক বিবৃতিতে বলেন, গেরেরো ফ্লোরেসের নেতৃত্বে ত্রেন দে আরাগুয়া উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপজুড়ে সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং মাদক পাচারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

ত্রেন দে আরাগুয়া দীর্ঘদিন ধরে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই দাবির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই হত্যাকাণ্ড সত্যি হয়ে থাকে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক অপরাধ দমন কৌশলে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স