ঢাকা

প্রস্তাবিত বাজেটকে হতাশাজনক বলছে ছাত্র ইউনিয়ন, কড়া প্রতিক্রিয়া ছাত্রফ্রন্টের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিএনপি সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বামধারার ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ)। সংগঠনটির অভিযোগ, এবারের বাজেটেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ জনগণের মৌলিক প্রয়োজনীয় খাতগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। একই সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) প্রস্তাবিত বাজেটের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় এবারও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত উপেক্ষিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে এসব প্রতিক্রিয়া জানায় সংগঠন দুটি। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এসব বিবৃতি দেন।

‘গণবিরোধী, ঋণনির্ভর ও বৈষম্যবর্ধক বাজেট’

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গতানুগতিক, গণবিরোধী, ঋণনির্ভর ও বৈষম্যবর্ধক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট আকারে বড় হলেও বাস্তবতার বিচারে এটি ফাঁপা ও অকার্যকর। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে বাজেটে কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই।

তাদের দাবি, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি। জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন না ঘটায় এই বাজেট বিদ্যমান বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোকেই আরও শক্তিশালী করবে।

কর্মসংস্থান তৈরির স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই

ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বাস্তবসম্মত রূপরেখা বাজেটে নেই। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হবে না।

তারা বলেন, বাজেটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা রাজস্ব আদায় ও নিয়ন্ত্রণনীতির ক্ষেত্রে দ্বিমুখী অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের মতে, করনীতি জনগণের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত অবহেলিত: ছাত্রফ্রন্ট

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ ছাত্র-জনতার মৌলিক সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও এবারের বাজেটেও এসব খাত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

তাদের অভিযোগ, বেকারত্ব দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলেও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হলে দেশের জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, কিন্তু বাজেটে এ বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে।

জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

ছাত্রফ্রন্টের নেতারা বলেন, ধনিকশ্রেণি, কালো টাকার মালিক ও আমলাতান্ত্রিক সুবিধাভোগীদের স্বার্থ রক্ষার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কর্মসংস্থানসহ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয় প্রতিটি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমানোর আহ্বান জানানো হয়।

বাজেট নিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থান

বিবৃতিতে ছাত্র সংগঠন দুটি বলেছে, দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, বৈষম্য কমানো এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শুধু বড় আকারের বাজেট নয়, প্রয়োজন জনমুখী ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।

তাদের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে বাজেট প্রণয়ন না হলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স