বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ পুলিশ সদস্যদের শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের এবং প্যান্ট হবে খাকি রঙের। অন্যদিকে মহানগর পুলিশ সদস্যদের জন্য শার্ট ও কিছু আনুষঙ্গিক পোশাকে হালকা জলপাই রঙ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে জানানো হয়, সংশোধিত ড্রেস রুলসের আওতায় ইউনিফর্মের রং, কাপড় এবং নকশা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের অনুমোদনের পর নতুন এই বিধান কার্যকর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশের পোশাকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্তে আগের ধূসরধাঁচের রঙের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত পরিচিত নীল ও খাকি রঙের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুধু শার্ট ও প্যান্ট নয়, শীতকালীন পোশাকেও এসেছে নতুনত্ব। জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার এবং জ্যাকেটের ক্ষেত্রেও গাঢ় নীল রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মহানগর পুলিশের জন্য জ্যাকেটে রাখা হয়েছে হালকা জলপাই রঙের বিশেষ নকশা।
নতুন বিধান অনুযায়ী, জেলা পুলিশসহ অধিকাংশ ইউনিটের সদস্যরা খাকি রঙের ট্রাউজারের সঙ্গে গাঢ় নীল শার্ট পরবেন। শার্টে চারটি পকেট এবং সামনের দিকে নির্দিষ্ট বিন্যাসে বোতাম থাকবে। ইউনিফর্মের নকশা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে তা ব্যবহারিক ও পেশাদার উভয় দিক থেকেই উপযোগী হয়।
নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চাইলে শাড়ি পরিধান করতে পারবেন। সাধারণ ইউনিটে গাঢ় নীল শাড়ি ও একই রঙের ব্লাউজ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। মহানগর পুলিশের নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে ব্লাউজে হালকা জলপাই রঙের ব্যবহার অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া নারী সদস্যদের জন্য মাথার আবরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ট্রাফিক ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী নারী পুলিশ সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী সারা বছর পূর্ণহাতা পোশাক পরতে পারবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন গর্ভাবস্থায়, অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ পোশাক ব্যবহারেরও সুযোগ থাকবে।
মৌসুমি প্রয়োজন বিবেচনায় শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গরমের সময় অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাথার আবরণও নির্ধারিত গাঢ় নীল রঙের হতে হবে।
নতুন ইউনিফর্মের মাধ্যমে বাহিনীর পেশাগত পরিচিতি ও দৃষ্টিনন্দনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।